Story
ক্যারি মিনাতি রোজগার করছেন ৪ মিলিয়ন ডলার
অমিত ভাদানা ৬.৩ মিলিয়ন ডলার
ভুবন বাম ৪ মিলিয়ন ডলার
আশিস চাঁচলানি ২০ মিলিয়ন ডলার
টেকনিক্যাল গুরুজি ৪৫ মিলিয়ন ডলার
অবাক হবার কিছু নেই। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ডিজিটাল কেরিয়ার এরা প্রত্যেকে তৈরি করেছেন। মনের মতন কনটেন্ট তাঁরা তৈরি করছেন আর প্ল্যাটফর্মে দেওয়া মাত্রই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউজ। একদিকে কামাই, অন্যদিকে পরিচিতি। আপনাদের মনে হচ্ছে কি হঠাৎ ইউটিউব নিয়ে কেন কেরিয়ারের কথা বলছি? চাপ নেই, বলব সেটাই।
আজ গোটা বিশ্বে ইউটিউব ব্যবহার করেন প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মানুষ। প্রতিদিন শুধু ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেল সার্ফ করা হয় ১ বিলিয়ন ঘন্টা মতন। শুধু ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই আজ রোজগারের অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে কারুর লাখে, তো কারুর কোটিতে। মানে, বলা যেতেই পারে যে, আজ ইউটিউব শুধু বিনোদনের একটা প্ল্যাটফর্ম নয়। আর্নিং-এরও একটা দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম।
সাল ২০০৫। গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উঠে এলো একটি মাধ্যম- ইউটিউব। প্ল্যাটফর্মটি যাদের হাতে তৈরি হল, তাঁরা হলেন স্টিভ চেন, চ্যাড হারলি এবং জাওয়েদ করিম। সেই সময় ইউটিউব স্রেফ একটি প্ল্যাটফর্ম ছিল আর সেটা বিনোদনের। কিন্তু ইউটিউবের ওপর ভরসা করে যে রোজগার করা সম্ভব, বিষয়টা ততদিন অনেকের কাছেই পরিষ্কার ছিল না। কিন্তু ঐ…শুরুতেই কি গাছে ফল আসে? সুতরাং সময় পেরোল। ধীরে ধীরে ইউটিউব নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হল কৌতূহল। পপুলারিটি বাড়তে শুরু করল দেশে-বিদেশে প্রত্যেকটি জায়গায়। ভারতেও দেখা গেল ইউটিউব নিয়ে অনেকেই চর্চা শুরু করেছেন। সেই সময় দাঁড়িয়ে কিন্তু যারা এই তুরুপের তাসটিকে ব্যবহার করবেন বলে ভেবেছিলেন, তাঁদের জন্য বিষয়টা বেশ কঠিন ছিল। কোথায় পড়াশুনো করে ছেলেমেয়ে চাকরি বা ব্যবসায় মন দেবে, মাসে মাসে রোজগার করবে, তা-নয়। এইসব ইউটিউব-ফিউটিউব করে কোন ভবিষ্যত আছে? কোন আয় করতে পারবে? দেখুন, এইসব প্রশ্নগুলো কিন্তু অনেক বাবা-মায়ের মনেই তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ ইয়ং অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ ইন্ডিয়ার জন্য এই ডিজিটাল কর্মসংস্থান, হুশ…সব বেকার কি বাত ভাই।
ইউটিউবে প্রথম ভিডিওটি পাবলিশ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। তার টাইটেল ছিল ‘মি অ্যাট দ্য জু’। ভিডিওটা তৈরি করা হয় সান দিয়েগো জু-তে। বর্তমানে ২৪৭ মিলিয়ন ভিউজ রয়েছে এই ভিডিও-তে। লাইক পড়েছে প্রায় ১২ মিলিয়ন মতন। কিন্তু বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, ১৭ বছর আগে তৈরি হওয়া এই ভিডিও ভারতে ক্রিয়েটরদের রাস্তা যে খুলে দিতে চলেছে, সেটা অনেক ইয়ং ইন্ডিয়ান বুঝতে পেরেছিলেন। ইন্সপায়ার হতে কে না চায়? আর যখন নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে আর একইসঙ্গে আরনিং হবে ভালো, তখন সেই প্ল্যাটফর্ম বেছে নেবার মধ্যে তো কোন অসুবিধা নেই। মানে, ইউটিউব ইন্ডিয়ার জন্য এলো দুর্দান্ত একটা সময়। ক্যারি মিনাতি, ভুবন বাম, অমিত ভাদানা, আশিস চাঁচলানি, গৌরব চৌধুরী বা টেকনিক্যাল গুরুজি…লিস্ট অনেকটাই লম্বা। অর্থাৎ, ইউটিউব এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্রহ্মাস্ত্র।
ইউটিউবে ভিডিও করেও যে টাকা-পয়সা, খ্যাতি এসব পাওয়া সম্ভব সেটা এখন এসটাব্লিশড। ফলে যখন মাঠ শূন্য ছিল, তখন যারা খেলেছে, তারা আজ ইউটিউবের মেসি, মারাদোনা হয়ে উঠেছে। আজ সবাই হতে চাইছে। ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে অনেকটাই। স্বাভাবিকভাবেই কনটেন্টের চাহিদাও তৈরি হয়েছে নতুন নতুন। এখন হাজার কনটেন্ট, কোটি কোটি ভিউয়ারস। আর এটাই ভারত সরকারের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বেশ ভালোরকম ভরিয়ে তুলেছে। শুধু ইউটিউব ক্রিয়েটরদের হাত ধরে এসেছে প্রায় ৬,৮০০ কোটি টাকা। নতুন করে চাকরি হয়েছে ৭ লক্ষ। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, এই প্ল্যাটফর্ম আবার চাকরি কিভাবে দিচ্ছে? বিষয়টা হচ্ছে, এখন একটা ভিডিও মানুষের সামনে রিপ্রেজেন্ট করতে গেলে সেটা ভালোভাবেই তৈরি করে ইউটিউবে দেওয়া হচ্ছে। সেটা তৈরি করছে একটা টিম। কেউ করছেন ক্যামেরা, কেউ করছেন স্ক্রিপ্ট, কেউ করছেন এডিটিং, তো কেউ আরএনডি…
মানে, সব শেষে একটা বিষয় পরিষ্কার। দেশে চাকরির কি হাল! ইয়ে আমাদের এখানেও! প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি। যেখানে ‘চাকরি কই’ বিষয়টা নেতা-মন্ত্রীদের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেখানে স্রেফ একটা প্ল্যাটফর্ম আজ এভাবে মানুষের রোজগার করার রাস্তা দেখাবে, সেটা অনেকেই হয়ত ভাবতে পারেননি। সুতরাং ইউটিউব চ্যানেল করে সব বুঝে যদি আপনিও একটা ঠিকঠাক ভিউয়ারস তৈরি করতে পারেন, তো মার দিয়া কেল্লা। ভাবুন, ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন। চাকরি নেই তো কি…আরে ইউটিউব আছে তো। আপনিও কি এই কথাটা ভাবছেন? মতামত জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ