Story
থমকে যাওয়া জীবনে দিশেহারা হয়েছিল মানুষ। কাজ হারিয়েছিলেন লক্ষেরও বেশি। টিকে থাকার লড়াইয়ে হার না মানা জীবনের ক্লাইম্যাক্সে কার্টেন রেইজার হলেন কল্যাণীর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।
দীর্ঘ বছরের ব্যবধানকে পাশ কাটিয়ে আবারও নেমে পড়লেন নতুন করে বাঁচার সংকল্প নিয়ে। নিউ নর্মালই এনে দিল এদের জীবনে নিউ চেঞ্জ। আর এই চেঞ্জের হাত ধরেই হল লক্ষ্মীলাভ।
জাতীয় নগর জীবিকা মিশন এবং স্বয়ংসিদ্ধা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নগর জীবিকা মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে কল্যাণী পুরসভার অধীনে ন’টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১০৮ জন মহিলা করোনা অতিমারির সময় বিকল্প রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন।
কল্যাণী শহরের ১৮টি প্রাথমিক এবং ৯টি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য তাঁরা এই স্কুলড্রেস তৈরির বরাত পেয়েছেন। করোনা আবহে স্কুল বন্ধ থাকলেও মিড-ডে-মিলের মতোই শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে স্কুলড্রেস বিতরণ করার প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে। মিড-ডে-মিল দেওয়ার সময় নিচু ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের এই স্কুলড্রেস দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই এত পরিমানে স্কুল ড্রেস তৈরি করতে তাঁরা ব্যাঙ্ক থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানালেন প্রতিক্ষা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা মঞ্জু রায়।
করোনা ভাইরাসের কোপে পড়ে যখন একের পর এক মানুষ কর্মহীন হয়েছেন, চিন্তা বেড়েছে মানুষের রোজগার নিয়ে। তখন দিনরাত পরিশ্রম করে স্কুলের ড্রেস তৈরির এই কাজ করে স্বনির্ভর হয়েছেন পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎপল্লী এলাকার শতাধিক মহিলারা। পাশে থাকতে পেরেছেন পরিবারেরও। তাই আরও মহিলা যাতে এই কাজে যোগ দান করে তারও চেষ্টা করছেন তাঁরা।
ড্রেসের মাপ নেওয়া থেকে শুরু করে, ছিট কাটা, সেলাই করা, ইস্ত্রী করা, ভাঁজ করে প্যাকেট করা থেকে ড্রেস ডেলিভারি দেওয়ার মত সব কাজই মহিলারা নিজেদের হাতে করছেন। বিগত চার বছর ধরে তাঁরা এই স্কুলড্রেস তৈরীর কাজ করে চলেছেন। কিন্তু গত বছর করোনার কারণে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চলতি বছরে ফের তাঁরা স্কুলড্রেস তৈরির বরাত পেয়েছেন। এইভাবে নিজেরা স্বনির্ভর হবার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে খুশি গোষ্ঠীর মহিলারা।
করোনার করাল থাবাও আটকাতে পারেনি কল্যাণীর এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। তাই স্কুল ড্রেস বানিয়েই আজ তাঁরা অন্যান্য মহিলাদেরও স্বনির্ভর হতে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন ।
রনি চ্যাটার্জি, নদিয়া