Tourism

চলতি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে কাতার। ফিফার অনুমোদন পেতে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছোট্ট দেশটিকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। আর যে কারণে কাতার খরচও করেছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা। বিশ্বকাপের আয়োজন করার জন্য কাতারের কোষাগার থেকে বেরিয়েছে ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সত্যি বলতে, এই পরিমাণ টাকা খরচ করার মত সামর্থ্য কাতারের আছে। কারণ কাতার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। মূলত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভার কাতারের ভাগ্যকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। তবে বিশ্বকাপ বলে নয়। কাতার আজ বিশ্বের সকল বিত্তবান মানুষের কাছে এক দুর্দান্ত হলিডে ডেস্টিনেশন হিসেবে উঠে এসেছে তাঁদের লিস্টে। একসময় যে দেশকে স্রেফ মরুশহর ছাড়া আর কিছুই বলা যেত না, আজ সেই কাতারেই তৈরি হয়েছে একের পর এক হোটেল, কৃত্রিম আইল্যান্ড থেকে কত কিছু। আজ আপনারা যারা হলিডে ট্র্যাভেল করবেন বলে ভাবছেন, তাঁদের জন্য কাতার থাকতে পারে প্রায়োরিটি লিস্টের একেবারে সামনের সারিতে। হ্যাঁ, খরচটা হয়ত একটু বেশিই পড়বে। কিন্তু ঘুরতে গেলে কি আর অত ভাবলে চলে? তাই কোথায় কোথায় ঘুরবেন, আজ সেই নিয়েই তুলে ধরব এক ছোট্ট প্রতিবেদন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার যার অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে মরুভূমি। গ্রীষ্মকালে এই দেশের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাই একটা সময় ছিল যখন বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য জায়গাগুলির মধ্যে একটি ছিল কাতার। একটা সময় ছিল, যখন কাতার ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল কাতার। ১৯৭১ সালে কাতার স্বাধীন হয় ব্রিটিশদের হাত থেকে। সেই সময় কাতারের অধিকাংশ মানুষ ছিলেন মৎস্যজীবী। কিন্তু যেদিন থেকে কাতার তার মাটির তলায় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজ পেল, সেদিন থেকে বদলে গেল কাতারের ভাগ্য। ধীরে ধীরে ফুলেফেঁপে উঠতে লাগল কাতার। জানা গিয়েছে, কাতারের একেকজন অধিবাসী দিনে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার টাকা রোজগার করেন। স্বাভাবিকভাবেই, তেল এবং গ্যাস কাতারের ভাগ্যকে আমূল বদলে দেবার কারণে কাতার বিশ্ববাসীর কাছে খুব পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে। ঝাঁ চকচকে আকাশ্চুম্বি বাড়ি, হোটেল, কৃত্রিম আইল্যান্ড কি নেই এখানে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের পা পড়ে কাতারে। আর যে কারণে কাতার সরকার ট্যুরিজম সেক্টরের জন্য ঢেলে বিনিয়োগ করে। জানা গিয়েছে, ২০০ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করা হয় শুধুমাত্র পর্যটন খাতে। আর যেখানে এত এত টাকার বিনিয়োগ, সেখানে পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানগুলি যে চোখ ধাঁধানো হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই কাতারে গেলে কোথায় ঘুরবেন, রইল তারই ছোট্ট একটা ঝলক।
দ্য পার্ল কাতারঃ
একটি কৃত্রিম দ্বীপ, যা প্রায় চার বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছে। দেখতে অনেকটা ঝিনুকের মতন। তাই দ্বীপের নাম রাখা হয়েছে পার্ল কাতার। এখানে পর্যটকরা পেয়ে যাবেন, বিভিন্ন ধরণের আবাসিক হোটেল। রয়েছে ঝাঁ চকচকে শপিং মল, ভিলা, রেস্তোরা আরও কত কী। বিশেষ করে এখানকার অন্যতম আকর্ষণের বিষয় হল ইয়ট। এই ইয়টে করে ঘুরতে পারবেন নিজের পছন্দমতন। বছরের প্রায় প্রতিদিনই এখানে কিছু না কিছুর প্রদর্শনী চলে। তাই পর্যটকদের ঢল নামে এখানে।
ইসলামিক আর্ট মিউজিয়মঃ
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামিক আর্টের প্রদর্শনশালা রয়েছে এখানে। ল্যুভর পিরামিডের অনুকরণে তৈরি হয়েছে ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ম। এই মিউজিয়ামটি প্রায় ৩,৭৭,০০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে। চুনাপাথরের তৈরি এই স্থাপত্য বছরভর পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। এখানেই পেয়ে যাবেন সিরামিক, গ্লাস এবং টেক্সটাইল ওমেটালের তৈরি নানান কারুকার্য।
সৌক ওয়াকিফঃ
আরবি ভাষায় ওয়াকিফ মানে দাঁড়ানো। বহু আগে বেদুইনরা নৌকায় করে এখানে আসতেন। এবং ভেড়া, ছাগল, পশম বিক্রি করতেন। শুধু জল থাকার কারণে এখানে স্থায়ী কোন জায়গা ছিল না। পরে অবশ্য এই জায়গাটিকে অনেকটাই উন্নত করা হয়। তৈরি করা হয় মাটি এবং কাঠের দোকান। ইতিহাস বিজরিত এই স্থানটি আজ কাতারের অন্যতম ঐতিহ্যশালী মার্কেট প্লেস। এখানে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা আসেন। কাতারি পোশাক, বিভিন্ন ধরণের মশলা, আতর এবং ধূপ মূলত বিক্রি করা হয় এখানে। এখানের কিছু দোকান দুপুর ১ টা নাগাদ বন্ধ হয়ে যায়। ফের খুলে যায় বিকেল ৪টে নাগাদ।
বানানা আইল্যান্ডঃ
এটিও কাতারের দ্য পার্ল আইল্যান্ডের মতন একটি কৃত্রিম দ্বীপ। এখানে প্রচুর পরিমাণে কলা গাছ থাকার কারণে দ্বীপের নাম দেওয়া হয়েছে বানানা আইল্যান্ড। এই দ্বীপের যে ভিউ তার সঙ্গে বেশ মিল পাওয়া যাবে মালদ্বীপের আইল্যান্ডগুলোর। তার সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে থাকল জেলিফিশ। এই আইল্যান্ডে আপনি প্রচুর পরিমাণ জেলিফিস পাবেন। তাই সাঁতার কাটতে হলে একটু সাবধান।
আজ কাতার নিঃসন্দেহে ইউরোপ বা এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর থেকে অনেকটাই এগিয়ে। কাতারে আজ কাতারে কাতারে পর্যটকদের ঢল নামে নিদারুণ ডেভেলপমেন্টের জন্য। তাই ঘুরতে গেলেই থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বা প্যারিস, লন্ডন নয়। একবার ঘুরে আসুন কাতারে। দেখে আসুন, কিভাবে একটি মরু দেশ নিজেকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়ান অফ দ্য টপ ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ