Trending
আয়ের থেকে ব্যয় বেশি নাকি ব্যয়ের থেকে আয়? এই বিষয়টা কী রাজ্যপাল দেখবেন? মানে এটা কি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে নাকি সেটা দেখবেন কেন্দ্রে ফিনান্স কমিশনে যারা রয়েছেন? প্রশ্নটা করেছেন অধীর চৌধুরী। সেই প্রশ্নের মধ্যে কোন খাদ নেই। তবে রাজ্যপাল যে বিষয়টা নিয়ে এখন দিল্লি ছুটে গেছেন, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করেছেন সেটা আরও মারাত্মক এবং বাংলার জন্য সেটা খানিক চিন্তার তো বটেই। কারণ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস মনে করছেন বাংলায় অর্থনীতি খুব একটা সুবিধে জনক জায়গায় নেই। বরং ভেঙে পড়ার মুখে। তাই আলোচনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আবার একইসঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছেন। তারপরেই কার্যত শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
বাংলাকে কেন্দ্র যে বারবার আর্থিকভাবে বঞ্চনা করেছে এই বক্তব্য উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিটা সৈনিকের কথায়। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ার ঠিক এমনই একটা সময় রাজ্য রাজনীতিতে ফের শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে। তারপরেই দাবি করেছেন, বাংলা অর্থনৈতিক ভাঙনের দোরগোড়ায়। এখানেই শেষ নয়। এই বিষয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকার কথা বলেছেন। এমনকি রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও তিনি বলেছেন। তারপরেই রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের সংঘাত যেন আরও সুদূরপ্রসারী হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ একাংশ বলছেন, রাজ্যপালের এই আর্থিক ভাঙন নিয়ে কথা বলার কোন এক্তিয়ার নেই। আবার অন্যদিকে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা রাজ্যপালের এই বক্তব্যকে একেবারে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তার মধ্যে কুণাল ঘোষ অন্যতম। কুণাল ঘোষ বলছেন, রাজ্যপাল তো রাজ্যের অভিভাবক। কেন্দ্রের কাছে গিয়ে রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে যে বকেয়া টাকা রয়েছে সেটা চাওয়া উচিৎ। কিন্তু সেটা না করে তিনি যা করছেন তা অভিভাবকের নয় বরং বিশ্বাসঘাতকতার সমান। কী বললেন কুণাল ঘোষ সেটা আবার শুনে নেওয়া যাক।
তবে এই বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন যেভাবে রাজ্যপাল পুরো বিষয়টাকে দেখাতে চাইছেন সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ ওভাবে অত তাড়াতাড়ি বা অত সহজে রাজ্যের অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে না। এই পুরো বিষয়টার মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি খুঁজছেন অনেকে। অনেকে আবার বলছেন, তৃণমূল-বিজেপির তরজা যাতে আরও উত্তপ্ত হয় এবং রাজনীতি যদি অর্থনীতির সীমা পরিসীমা ক্রশ করে বাংলার বুকে দুই প্রধান দলের দ্বন্দ্ব হিসেবে ধরা দেয় তাহলে খুব সহজেই অনেক ইস্যু থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া যাবে। এবার এই বিষয়ে অধীর চৌধুরী বলছেন, আয়ের থেকে ব্যয় বেশি নাকি ব্যয়ের থেকে আয় বেশি এটা দেখবে কেন্দ্রের ফিনান্স কমিশন। এটা তো রাজ্যপালের দেখার কথা নয়। কী বললেন অধীর চৌধুরী শুনে নিন।
আপাতত যা বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যপালের এই বক্তব্য কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে। একইভাবে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত আরও অনেকটাই সুদূরপ্রসারী হল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে কিনা সেই প্রশ্ন কিন্তু দিনের শেষে থেকেই যাচ্ছে। আপনাদের কি মনে হয় জানান কমেন্ট বক্সে। সঙ্গে দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ।
জীবন হোক অর্থবহ