Daily
নদীমাতৃক দেশ ভারত। কৃষি অর্থনীতি থেকে শিল্প, বাণিজ্য এমনকি পর্যটন-ভারতের প্রতিটি ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করতে পারে নদীপথ। তাই এই নদীপথকে পাখির চোখ করে ভারতের বাণিজ্যে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে বিশ্বের দীর্ঘতম নদীপথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত শনিবার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন বিশ্বের দীর্ঘতম নদীপথের। শুরু হয় এমভি গঙ্গাবিলাস প্রমোদতরীর মহাযাত্রা। কিন্তু হঠাৎ নদীপথকেই কেন ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির চাবিকাঠি হিসেবে বেছে নিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্ন জেগেছিল অনেকের মধ্যেই। সেই প্রশ্নের খোলাসা করেন তিনি। জানান, নদীপথে পরিবহণের খরচ, সড়ক বা রেলপথের থেকে অনেক কম। আর এক্ষেত্রে পরিবেশের ক্ষতিও অনেকগুণ কম হয়।
নদীপথ যুক্ত করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে তাই বিশ্বের এই দীর্ঘতম নদীপথের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্দরে মাল্টিমোডাল টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেন। যার মধ্যে হলদিয়া মাল্টিমোডাল টার্মিনাল অন্যতম। হলদি নদীর পারে অবস্থিত ৬০৭.৭৩ কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্টে তৈরি হলদিয়া মাল্টিমোডাল বন্দর দেশের বাণিজ্যমহলের এক আন্তঃরাষ্ট্রীয় গেটওয়ে বলা যেতে পারে। এর ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এটি এই দীর্ঘতম জলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হতে পারে। আর ঠিক এই কারণেই সম্প্রতি হলদিয়া মাল্টিমোডাল টার্মিনালের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ভ্রমণপিপাসু মানুষজন অন্তত একবার হলেও এই প্রমোদতরীতে চড়ে বিশ্বের দীর্ঘতম জলপথ ভ্রমনের ইচ্ছে যে রাখবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকেরাও এই প্রমোদতরীতে চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন ভারত-বাংলাদেশের হেরিটেজ সাইটগুলো। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনার ফলে সমৃদ্ধ হবে স্থানীয় বাজার, কুটিরশিল্প। বাড়বে কর্মসংস্থান। জোয়ার আসবে সেই অঞ্চলের আর্থিক বৃদ্ধিতে। এছাড়াও মাল্টিমোডাল টার্মিনাল নির্মাণ যে দেশ বিদেশের বিনিয়োগ বাড়াবে, সে বিষয়েও আশাবাদী কেন্দ্রীয় সরকার। সব মিলিয়ে বিশ্বের এই নদীপথে প্রমোদতরীর যাত্রাপথকে কেন্দ্র করে এক বিশাল ব্যবসায়িক জোয়ার আসতে চলেছে ভারতবর্ষে, আর এটা যে সত্যিই একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসূন ব্যানার্জি
পূর্ব মেদিনীপুর