Story

আজকে আপনাদের দেখাব ডলার। না, গেঞ্জি কোম্পানি নয় কিন্তু। তাহলে বুঝতেই পারছেন ডলার বলতে কি বুঝি? ডলার শব্দটি শুনলেই কড়করে নোটে লিঙ্কনের ছবি দেওয়া অর্থাৎ ইউএস ডলারের কথাই মনে পড়ে। কারোর আবার ডলার বলতেই মনে পড়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির কথা। মোট কথা ডলার এবং আমেরিকা। এই দুটি শব্দ যেন কোথাও মিলেমিশে গিয়ে এক হয়ে যায়। বাংলার তিনটি অক্ষরের মধ্যে। যার উচ্চারণ ডলার।
আজকে এই ভিডিওতে আমরা জানাব বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী কারেন্সি ইউএস ডলারের কিছু খুঁটিনাটি তথ্য। ভারতে যেমন টাকা। তেমনি মার্কিন টাকার নাম হল ডলার। তবে সিঙ্গাপুর সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও ডলার রয়েছে। যা ধারে বা ভারে কোনভাবেই মার্কিন ডলারের সমকক্ষ হতে পারেনি। আর এখানেই মার্কিন ডলারের ইউএসপিটা লুকিয়ে। চলুন বন্ধুরা। ডলারের খুঁটিনাটি তো আপনাদেরকে দেখাবই। ডলারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসেও আসুন একবার চোখ বুলিয়ে নিই।
আমেরিকায় ১৬৯০ সালে ঔপনিবেশিক শাসনে প্রথম কাগজের নোটের প্রচলন হয়। তারপর ১৭৭৬ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ডলার। এর ন’ বছর পর ১৭৮৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকের ডলারের উপর যে সিম্বলটা আপনারা দেখেন। সেই সিম্বলটা গ্রহণ করা হয়। সবথেকে মজার কথা ১৮৬৩ সালে আমেরিকায় সরকার তৈরি করে অফিস অফ দ্য কন্ট্রোলার অফ কারেন্সি এবং ন্যাশনাল কারেন্সি ব্যুরো। এই দুটি প্রতিষ্ঠানই ডলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাপাতে শুরু করে। এবং শেষ পর্যন্ত ১৮৯০ সাল থেকে ডলার ফেডেরাল রিজার্ভ হিসেবে পৃথিবীর বুকে রাজ করে চলেছে।
এখন সারা পৃথিবীতে মার্কিন ডলারের দাপাদাপির পিছনে ঠিক কী কী কারণ বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন, আসুন এক ঝলকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
১। সারা পৃথিবীতে ডলার ছড়াতে শুরু করে ১৯১৪ সাল থেকে ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তৈরি হওয়ার পর।
২। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে হাতিয়ার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রশক্তির দেশগুলিকে অস্ত্রের জোগান দিয়ে বিনিময়ে ঘরে তোলে প্রভূত পরিমাণ সোনা। তৈরি হয় মার্কিন মুলুকে এযাবৎ কালের সর্ববৃহৎ সোনার ভাণ্ডার। তাই ডলারকে তারা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে প্রোমোট করে।
৩। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই একই কৌশল নিয়ে ডলারকে আল্টিমেট গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত করে।
৪। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (IMF) তাদের রিপোর্টে বলছে বিশ্বের ৫৯% দেশ তাদের নিজেদের রিজার্ভ ব্যাঙ্কে এখনো মজুত ভাণ্ডার হিসেবে গচ্ছিত রাখে ইউএস ডলারকেই।
৫। বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার শুধু যে শক্তিশালী তাই নয়। র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকেও অন্যান্য কারেন্সির থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
বন্ধুরা দেখলেন তো, মার্কিন ডলারের কেরামতি। আসলে সেই গ্রামীণ প্রবাদটাই মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে খাটে। স্যাকরাড় ঠুকঠাক, কামারের এক ঘা। মানে ধরুন, আপনি ১০০ মার্কিন ডলার নিয়ে নেপালে গেলেন। প্রায় দ্বিগুণ টাকা আপনার হাতে চলে আসবে। তাহলে বুঝতে পারছেন তো ডলারের দাম কতটা বেশি? আবার ধরুন কোন শেয়ার বাজারে আপনি যদি মার্কিন কোম্পানিগুলির শেয়ার কেনেন। মার্কিন কোম্পানিগুলি আপনাকে ডলার মূল্যে এদেশে পেমেন্ট করবে। সেখানেও আপনি ভারতীয় মুদ্রার থেকে অনেক বেশি টাকা পাবেন। সবমিলিয়ে ডলারকে কবির ভাষায় বলাই যায়, মুদ্রারাক্ষস আজ গিলেছে সবারে।