Story
প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই নেশা ও পেশা দুইই থাকে। কিন্তু যারা নেশাকে পেশা বানিয়ে জয়ী হতে পারে তারাই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। নেশা পেশার মেলবন্ধন মুর্শিদাবাদের ইকবাল। আর ইকবাল ইনকিউবেটর তো রীতিমত ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে লোকের মুখে মুখে। বিশেষত ফার্ম ব্যবসায়ীদের কাছে। হয়ত এমন দিন আসবে যেদিন গুগল সার্চে র্যাঙ্ক করবে ইকবাল ইনকিউবেটর।
পশুপাখির প্রতি বরাবরই ঝোঁক ছিল বেলডাঙা ১ নং ব্লকের ঝুনকা গ্রামের ইকবাল হোসেনের। সবসময়ই ভাবতেন কী করে বৈদ্যুতিক মাধ্যমে ডিম থেকে মুরগি ফোটানো যায়। কৃত্রিম উপায়ে মুরগি উৎপাদনের চিন্তা মাথায় এলেও পারিবারিক চাপে থেমে যান ইকবাল সাহেব। কিন্তু নেশাকে তিনি দমিয়ে রাখতে পারেননি। তাই আজ তাঁর বানানো হ্যাচারি মেশিন সারা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে। কিভাবে শুরু হল তাঁর স্বপ্নপূরণের যাত্রা, আসুন শুনে নি তাঁর কাছে।
মুর্শিদাবাদে বাড়তি ডিমের চাহিদা মেটাবে পশুপ্রেমী ইকবালের ডিম ফোটানার যন্ত্র। এই বিষয়ে বহরমপুর খামার ইনচার্জ নইমুদ্দিন শেখ জানান, ইকবাল হোসেনকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর আজ তাঁর পরামর্শেই ইকবাল হয়ে উঠেছেন খামারির এক অন্যতম মুখ।
ইকবাল বাবুও জানান যে তিনি নইমুদ্দিন বাবুর কাছেই সবটা শিখে এই জায়গায় পৌঁছেছেন এবং আগামী দিনে এই হ্যাচারি মেশিনের সাহায্যেই নিজের ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
এই মেশিনে কম সময়ে অনেক বেশি ডিম ফোটানো যায়। আর কম দাম বলে বাজারে তাঁর আবিষ্কৃত যন্ত্রের চাহিদাও বাড়তে থাকে। ইকবাল বাবু জানান, ১২০০ ডিম ফুটিয়ে ২১ দিনের মাথায় মুরগির বাচ্চা তৈরি হবে এই হ্যাচারি থেকে। তাই এত চাহিদার ফলে নেশা এখন পেশায় পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেলডাঙার এই পোস্টমাস্টার। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৭৬ কোটি ডিমের প্রয়োজন হয়। তাই চাহিদা মেটাতে জেলার কৃষক বাজারগুলিতেও এই হ্যাচারি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এই ব্যাবসা তাঁকে অনেকখানি লাভের মুখ দেখিয়েছে বলে জানান ইকবাল বাবু।
ইকবাল হোসেনের আবিষ্কৃত ইনকিউবেটর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন কিষানমান্ডিতে দেওয়ার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে জেলা প্রশাসন । ইকবাল সাহেব তাঁর আবিষ্কারের জন্য গত ২ রা জানুয়ারি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ অ্যানিম্যাল অ্যান্ড ফিসারি সায়েন্সের ২৪ তম ফাউন্ডেশনের দিন কলকাতার বেলগাছিয়া থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন । জেলার পক্ষ থেকেও সম্মান দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁকে নিয়ে আগামীতে কী পরিকল্পনা রয়েছে জানালেন নইমুদ্দিন বাবুর।
চাষি নূর আলম শেখ জানান ইকবাল বাবুর যন্ত্র তিনি দেখেছেন এবং ইকবাল বাবুর সঙ্গে কথা বলে এই যন্ত্র অর্ডারও দিয়েছেন।
নেশাকে পেশা বানিয়ে স্বপ্ন পূরণের উদাহরণ গড়লেন ইকবাল শেখ। তাই মুর্শিদাবাদের হ্যাচারি শিল্পে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হ্যাচারি শিল্পে আগ্রহী করে তোলা- দুইই এখন তাঁকে সামনে রেখেই।
কুশল শরিফ , মুর্শিদাবাদ