Story
বৃষ্টিপাত, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ আর ডিভিসি’র ছাড়া জল- ত্রিফলায় ভাসছে রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার হাজার হাজার একর কৃষিজমি। ধান থেকে সব্জি, সব্জি থেকে ফলমূল ও একের পর এক ফুলের ক্ষেত আজ জলের তলায়। এমনকি ড্রোনের সাহায্যে তোলা ছবিতে ধরা পড়ল শুধুই চরাচরব্যপী জলছবিটা। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করেছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানে ক্ষতির পরিমাণ সবথেকে বেশি। ধানক্ষেতগুলিতে এখনও কোমরসমান জল। ধানের চারা আজ কোনমতে জলের বাধা পেরিয়ে মাথা তুলে রয়েছে। যদিও গত শুক্রবার থেকে জল নামতে শুরু করেছে। কিন্তু মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে কৃষকদের সামনে হাজির হয়েছে দামোদরের ভাঙন।
ইনি শেখ মোবারক। দামোদর নিয়ে নিয়েছে তাঁর এক একর জমি। ভেবেই কূল পাচ্ছেন না কী করবেন আর কিনা করবেন। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন নদিতে তলিয়ে যাওয়া জমির ধারে।
শেখ মোবারকের মত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, জ্যোৎশ্রীরাম, অমরপুর, শিয়ালি, কোড়া, মাঠ শিয়ালি গ্রামের সিংহভাগ কৃষকরাই আজ দামোদরের আক্রমণে ভীতসন্ত্রস্ত। কৃষকদের এই দুরবস্থার কথা শিকার করে নিয়েছেন এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
ইনি রফিকুল ইসলাম। জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের তৃণমূলের যুব সভাপতি। মেনে নিয়েছেন দামোদরের ভাঙ্গনের কথা।
বৃদ্ধচাষি মুজিবর তো প্রশ্নই করলেন ক্যামেরার সামনে সরকার আমাদের সাহায্য করবে কি?
ফুলচাষে যে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে এলাকায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। লক্ষ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে গোলাপ চাষ করেছেন বহু চাষি। আজ তাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন।
ইনি কল্যাণ মণ্ডল। ধারদেনা করে গোলাপ চাষ করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকার। এক বর্ষা ভাসিয়ে নিয়ে জড়িয়ে দিল দেনার জালে।
মাঠের পর মাঠ আর বিঘের পর বিঘে। একের পর এক পেঁপে গাছ ফলন্ত পেঁপে নিয়ে নিশ্চিন্তে ভাসছে বর্ষার জলে। আর যারা বাগান চাষ করেন বিশেষত মরশুমি ফলের, তাঁদের অবস্থাও সাংঘাতিক। ক্ষতির পরিমাণটা শুনলে চমকে উঠতে হয়।
ইনি মঙ্গল মণ্ডল। বাগান চাষি। বিভিন্ন ধরণের মরশুমি ফলের চাষ করেন। জল আর বর্ষা সাধের বাগানকে পাঠাল রসাতলে। বাগানের সামনে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের মুখেই বললেন ক্ষয়ক্ষতির কথা।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বন্যা কবলিত জেলাগুলিতে আকাশপথে সফর সেরেছেন। করেছেন জেলায় জেলায় উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরও ব্যস্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করতে। ক্ষতি যা হবার তাতো হয়েই গিয়েছে। আজও জেলাগুলিতে জল পুরো নামেনি। এমনকি রাজ্যের সব্জি ভাণ্ডার বলা হয় ভাঙ্গড়কে। সেই ভাঙ্গড়েও বিভিন্ন সব্জির ক্ষেতগুলোতে শুধুই জল থৈ থৈ। কবে আসবে সুরাহা? কবে পাবেন কৃষক ক্ষতিপূরণ? কবে আবার গৃহবধূ পাকা রাস্তা ধরে জল আনতে যাবেন জল ভাঙার বদলে, সেটাই এখন দেখার।
বিক্রম লাহার রিপোর্ট