Story
কথায় বলে, জমি হচ্ছে লক্ষ্মী। একটুকরো জমি থাকলে সেই জমি মানুষকে আর্থিকভাবে অনেকটাই সক্ষম করে তোলে। আর চাষিদের তো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এই জমিই। তবে শুধু চাষ করেই যে একজন চাষি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন এমন নয়। নিজের জমিতে চারা তৈরি করে সেই চারা রাজ্যের বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েও যথেষ্ট স্বচ্ছল হওয়া যায়। মাটির বাড়ির পরিবর্তে তৈরি করা যায় পাকা বাড়ি। যা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার মঞ্জিলহাটি গ্রাম। যে গ্রামে প্রবেশ করলে দেখা পাওয়া যায় কয়েকশো ফল গাছের নার্সারি বেড। যা এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে যথেষ্ট জ্বালানী দিয়েছে।
সব ধরণের চারাই তৈরি করা হয় এখানে। আম, জাম, মাল্টা, মুসম্বি, পেয়ারার মত সব ধরণের ফলের চারাই তৈরি হচ্ছে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে। বছরভর এই কাজ হয় বলে প্রয়োজন পড়ে শ্রমিকেরও। ফলে কৃষক থেকে শ্রমিক- সকলেই লাভবান হচ্ছেন এই চারা তৈরি থেকে রপ্তানি করে।
চারার বয়স ৬ মাস হয়ে গেলেই সেই চারা রপ্তানির জন্য পাঠানো হয়ে থাকে। পাইকারিভাবে যেমন বিক্রি করা হয় তেমনই আবার এলাকাতেও বিক্রি করা হয়ে থাকে এই চারা। তবে চারার দাম যেমন নির্ভর করে সিজনের ওপর তেমনই নির্ভর করে চারার মানের উপরেও।
বক্সের মধ্যে যেমন রাখা হয় এক ফুটের চারা, তেমনই তিন ফুটের চারাগুলি রাখা হয় বস্তার মধ্যে। সড়ক পথে বা রেল পথের মাধ্যমে এই চারাগুলি পৌঁছে যায় মহারাষ্ট্র, এলাহাবাদ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাতের মত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এই চারা।
প্রতিদিন ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ফলের চারা রপ্তানি হচ্ছে বাইরে। স্বাভাবিকভাবেই যা মঞ্জিলহাট গ্রামের অর্থনীতিকে যথেষ্ট চাঙ্গা করছে। একদিকে যখন অতিমারি এবং লকডাউনের জোড়ালো কামড়ে বহু মানুষের জীবনে নেমেছে আর্থিক অনিশ্চয়তা তখন দেগঙ্গার মঞ্জিলহাট গ্রামের কৃষকরা নজির তৈরি করে দেখিয়ে দিয়েছেন এক টুকরো জমি থাকলে কিভাবে স্বনির্ভর হওয়া যায়।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা