Story
পাহাড়ের ঢালে ছোট্ট একটা বাড়ি। জানলা খুললেই পাহাড়ি বাতাস এসে রোজ খবর নিয়ে যায় নিয়ম করে। বাড়ির দেওয়াল ঘেঁষে ভোঁ বাজিয়ে এগিয়ে চলেছে টয়ট্রেন। এ পাহাড় থেকে সে পাহাড়ে পর্যটকদের নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। আর সেই টয়ট্রেন দেখে স্বপ্ন বুনছে ওই কার্শিয়াং পাহাড়ের ছেলেটা। টয়ট্রেন কীভাবে চলে? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে স্বপ্ন দেখার সেই যে শুরু… তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বপ্ন যখন পেটের ভাত জোগানোর মন্ত্র হয়ে ওঠে, তখন বোধ হয় পিছন ফিরে তাকাতে হয়ও না।
কার্শিয়াং মহাকুমার ছোট্ট গ্রাম তিনধারিয়া। সেখানেই জন্ম, শৈশব এবং পড়াশুনো সঞ্জীব বাবুর। যদিও বর্তমানে শিলিগুড়ির বাসিন্দা। তবে ছোটবেলাটা ঐ পাহাড়েই সব। পেশায় শিল্পী। সেটারও দিশারী ঐ পাহাড়। ভাঙা টিনের পাত কিংবা ফেলে দেওয়া তারের টুকরো জোরা দিয়ে অনায়াসেই বানিয়ে ফেলেন টয়ট্রেনের ইঞ্জিনের মডেল। ইউনেস্কো হেরিটেজ পাওয়া টয়ট্রেনের মডেল পৌঁছে যায় দেশে-বিদেশে।
নিপুণ তার হাত। অনবদ্য শিল্প। যার মাধ্যমে আজও তিনি ধরে রেখেছেন ইতিহাসের সেই বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের ঐতিহ্য। ১৯ ফুটের মস্ত ইঞ্জিনকে নিমেষেই ৬ ইঞ্জির নাগালে নিয়ে চলে আসতে পারেন। তার এই নিখুঁত কাজের জন্য গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছোট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগের পক্ষ থেকেও শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২২ বছর ধরে তৈরি করছেন এই মডেল। উপহার হিসেবে পৌঁছেছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও। এমন সুন্দর শিল্প সযত্নে সাজিয়ে রাখারই বটে। বাংলার বুকে এত সম্ভাবনা সরকারী সহায়তা পেলে আরও কতদূরই না এগোতে পারে।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি