Story
টন টন চিংড়ি ভেসে আসছে রূপনারায়ন ও গঙ্গায়। বড় সাইজের চিংড়ি কেজি মাত্র ১০০ টাকা।
দেখুন রূপনারায়ণ পারের সেই এক্সক্লুসিভ ছবি
ইয়াস পরবর্তী সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে ভেসে গিয়েছে দুই মেদিনীপুরের সমুদ্র লাগোয়া নোনা জলের চিংড়ি মাছের ভেরিগুলি। ভেরি থেকে মাছ ভেসে এসে পড়ছে রূপনারায়ণ, গঙ্গায়। জেলেরা নদীতে নৌকা বোঝাই করে করে মাছ বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন। তাও আবার জলের দরে।
দেখুন রূপনারায়ণ নদীর পাড়ে চিংড়ি মাছ কিনতে মানুষ কিভাবে দূরত্ব বিধি ভুলে গিয়ে ভিড় করছেন। রূপনারায়ণের রাস্তার ধারে এখন রীতিমত যানজট। সেই এক্সক্লুসিভ ছবি দেখছেন বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
মাত্র ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সাদা চিংড়ি। যার পোশাকি নাম ভেনামি চিংড়ি। ক্ষয়ক্ষতি কি পরিমান হয়েছে তা জানা গেল বিশিষ্ট মৎস্য বিজ্ঞানী ডক্টর অর্চন কুমার দাসের কথায়।
বজ বজ থেকে ডায়মন্ড হারবার হয়ে শেওড়াফুলি পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাটে বিক্রি হচ্ছে এই ভেনামি চিংড়ি তাও জলের দরে।
ইয়াস পরবর্তী জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মৎস্যচাষী। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এখনো পর্যন্ত মৎস্যচাষীদের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪০০ কোটি টাকার আশেপাশে।
রূপনারায়ন থেকে নৌকা পারে ভিড়তেই মানুষ একেবারে নদীর ধার পর্যন্ত নেমে গিয়ে কিনছেন চিংড়ি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠি চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ চলে যেতেই আবার নদীর পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষরা। সস্তায় চিংড়ি পাওয়ার আশায়।
দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগনা সহ বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি প্রায় ৭০ হাজার মৎস্যচাষী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি ইতিমধ্যেই দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করতে শুরু করে দিয়েছেন।
কথায় আছে চিংড়ি কাউকে ফকির থেকে রাজা বানায় আবার রাজাকে নিমেষে ফকিরে পরিণত করে। এখন ইয়াসে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে যারা যারা ফকির হলেন সেই সমস্ত মৎস্য চাষীদের মুখে সরকার কত তাড়াতাড়ি হাসি ফোটাতে পারবেন সেটাই এখন দেখার।
উত্তর ২৪ পরগনা থেকে দেবস্মিতা মন্ডল, অঙ্কিত মুখার্জী, বিক্রম লাহার সঙ্গে কোলাঘাট থেকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিপোর্ট