Story
তারা এখনও সমাজে অনেকটাই অবহেলিত। নেই তাদের মাথা তুলে সসম্মানে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ। তবু তাদের লড়াইয়ে নেই বিন্দুমাত্র গাফিলতি। তাই একদিকে যখন সমাজের সকল স্তরে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ মসৃণ গতিতে এগোচ্ছে, তখন এরাই বা বাদ থাকবেন কেন? কিন্তু কে আসবে এগিয়ে? অগতির গতি তাই নিজেরাই। অবশেষে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে নিজেরাই করোনা প্রতিষেধক নেবার উদ্যোগ নিলেন পরিণীতা সরকার, ইমন মুখার্জী, শ্রাচি দাসের মত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা।
উত্তর ২৪ পগনা জেলার বারাসাত, ব্যারাকপুর সহ গোটা জেলায় এই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের তাঁরা সংগঠিত হয়েছেন করোনা সংক্রমনের বিরুদ্ধে। বারাসাত ১ ও ২ নম্বর, ব্যারাকপুর ১ ও ২ নম্বর, আমডাঙ্গা, দেগঙ্গা, হাবড়া, অশোকনগর, রাজারহাট সহ বহু ব্লকের থেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা এই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে যোগদান করেছেন করোনা টিকা গ্রহণের জন্য। সঙ্গে পেয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সব রকম সাহায্য।
ব্লক অনুযায়ী ভাগ করে প্রতিদিন ১০-১৫ জন করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যেদিন যে ব্লকে হবে সেইদিন তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে। ঠিক কি পদ্ধতিতে ভ্যাক্সিনেশন করা হবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জানা গেল ব্লক স্বাস্থ্য কর্মীর কাছ থেকে।
যেভাবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য টিকাদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু বাস্তবের মাটি যে তাঁদের জন্য আরও শক্ত। এমনিতেই এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ, তার ওপর রয়েছে সমাজের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা। সরকারের সাহায্য তাই প্রয়োজন বলেই মনে করছেন শ্রাচি দাস
দাবি যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে টিকে থাকার সংগ্রাম। তা সে যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে যখন টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে তখন নিশ্চয়ই তাঁদের জন্য স্থায়ী কিছুর ব্যবস্থা করবে সরকারই। সময় থেমে থাকে না। তাই পরিণীতা সরকার, ইমন মুখার্জী, শ্রাচি দাসের মত তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিটি মানুষ দেখেন দিনবদলের স্বপ্ন।
উত্তর ২৪ পরগনা, বিক্রম লাহা