Story
বাংলার ঐতিহ্য তাঁতে। সেই তাঁতের সঙ্গে তাঁতির নাড়ির টান। সেই টানেতে এখন পলি পড়েছে অনেকটাই। অতীতে তাঁত আর তাঁতির ঘরে অর্থের জোয়ার থাকলেও সেই জোয়ারেও ভাগ বসাত মহাজনরা। এখন মহাজনী প্রভাব অনেকটা ফিকে হলেও বরাত আর সরকারি সংরক্ষণের অভাবে ভুগছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। এই শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ভরসা আজ শুধুই সরকারি সংরক্ষণ।
ইনি যোগেন বর্মন। পেশায় তাঁতি। বাড়ি অসম-বাংলা সীমান্তবর্তী নাজিরান দেউতী খাতা গ্রাম। তাঁর হাত দিয়ে তৈরি হওয়া শাড়ি, মেখলা উত্তরবঙ্গ সহ অসমেও যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু সময়ের ফেরে আজ তাঁর ঘর থেকে একরকম উধাও হয়েছে ব্যস্ততা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুবেলা পেট ভরানোর জন্য এখন আর তাঁত বোনার দিকে মন দিতে পারেন না যোগেনবাবু। নেই নতুন অর্ডার। নেই তাঁত যন্ত্রের শব্দ। তাই সংসার চালানোর জন্য আগামী দিনগুলো যেন অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে এই তাঁত শিল্পীর।
যোগেন বাবুর বাড়ির কাছেই থাকেন ভল্কা ২ নং জি.পি-র হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ দেবীপ্রসাদ দাস। তিনিও যোগেন বাবুর কাজের যেমন প্রশংসা করলেন তেমন মেনেও নিলেন তাঁতির আর্থিক দুরবস্থার কথা।
একটি মেখলা সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে সময় লাগে ১০-১২ ঘন্টা। পরিশ্রমের ফসল হিসেবে যেটুকু রোজগার হয় তাই দিয়েই সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পেটের টানে এই পেশা ছেড়েও দেবেন ভেবেছিলেন এই তাঁত শিল্পী। তাই বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরার মাধ্যমে যোগেন বাবু চাইলেন সরকারি হস্তক্ষেপ।
তবে এরই মধ্যে আশার আলো দেখালেন রামপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মালতী বর্মন। তিনি যোগেন বাবুকে মানবিকভাবেই সাহায্য করবেন বলে জানালেন।
আগে ছিল ব্যস্ততা। এখন অতীতের ধুলো জমে তাঁত যন্ত্রের গায়ে। আগে কর্মচারীদের নিয়ে ছিল রমরমা ব্যাপার। মহাজন কম টাকা দিলেও সংখ্যার নিরিখে কোনরকম অসুবিধের মধ্যে পড়তে হতনা যোগেনবাবুকে। এখন সব উধাও। যোগেন বাবুর সহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন একজন। তাঁর স্ত্রী। দু’একটা যা অর্ডার আসছে তা যোগেনবাবুর মত এই বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য তাঁত শিল্পীদের কাছেও একটাই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ভালো নেই তাঁত শিল্প, ভালো নেই তাঁতি। এখন সরকারি কৃপা দৃষ্টি পড়লে তবেই হয়ত এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন যোগেনবাবুর মত তাঁত শিল্পী।
অভিজিৎ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার