Daily
এক বড় চত্বরে বসেছে মেলা। সেই মেলায় রয়েছে অনেক দোকান। রায়গঞ্জ থেকে রাজস্থান, মুর্শিদাবাদ থেকে ওড়িশা। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা এসেছেন। পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলার দরজা খুলছে দুপুর ১২টায়। তারপরেই নামছে ক্রেতাদের ঢল। বিক্রি হচ্ছে ভালোই। সুন্দর, ছিমছাম তবে জমজমাট- মেলার কথা বললে এই দৃশ্যই প্রথমে মাথায় আসে, তাই না? কিন্তু সাধারণ মেলার সঙ্গে তাহলে শিলিগুড়ির সরস মেলার ফারাকটা কোথায়? ফারাক শুধু পসরায় নয়, অন্যান্য সাধারণ মেলার থেকে ফারাক রয়েছে একেকটি দোকানে সাজানো শিল্প তৈরির কারিগরদের মধ্যেও। আর এটাই শিলিগুড়ি সরস মেলার ইউএসপি।
৬ জানুয়ারি থেকে শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে শিলিগুড়ি সরস মেলা। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরের মত জেলা থেকে শিল্পিরা তো এসেছেনই। একইসঙ্গে ওড়িশা বা রাজস্থানের মত রাজ্য থেকেও সরস মেলাতে অংশ নিতে এসেছেন শিল্পীরা। পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রির আশায়। জানা যাচ্ছে, বাংলার ২৩টি জেলা এবং দেশের ১০টি রাজ্যের হস্তশিল্পীরা এই সরস মেলায় যোগদান করতে এসেছেন। আর এই সরস মেলার ইউএসপি হচ্ছে, এখানের অধিকাংশ শিল্পীরাই মহিলা। হ্যাঁ, মহিলা শিল্পীদের হাত ধরেই গোটা মেলা চত্বরে ব্যবসা বাণিজ্য চলছে ভালোরকম। বড়ি থেকে চাল, ঝুড়ি থেকে ডাল, আসন থেকে পাপোশ, হ্যান্ডমেড গয়না থেকে সাজসজ্জার সামগ্রী। এমনকি বাহারি জামাকাপর, আচার, ফল, ফুল- যেন মেলা চত্বরে ঢুকলেই ক্রেতাদের অবস্থা খারাপ। মনে হবে কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনি? আর সবথেকে বড় কথা এই সাজিয়ে রাখা পসরার অধিকাংশটাই তৈরি করছেন মহিলা হস্তশিল্পীরা। তাঁদের শৈল্পিক গুণের কথা আর কিই বা বলব। নিজের চোখেই দেখুন, পুরোটা।
এই মেলার আরেকটা বিশেষত্ব হচ্ছে যে, সরস মেলায় কিন্তু হ্যান্ডমেড বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও চাষের ফসল বিক্রি হচ্ছে সরাসরি। জৈব সারে ফলন হওয়া বেগুন বা চাল- আহা, শীতের দুপুরের জন্য যেন আদর্শ। যেসকল বিক্রেতারা এই মেলায় পণ্য বিক্রির জন্য এসেছেন, তাঁরা মেলায় বিক্রিবাটার বহর দেখে অনেকটাই খুশি। বিক্রেতারা কি বলছেন শুনে নেওয়া যাক।
রাজ্যব্যাপী মহিলাদের স্বনির্ভর করতে হস্তশিল্পের উপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই হস্তশিল্পের প্রসার ঘটাতে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করার লক্ষ্যে সরস মেলার আয়োজন করা হয়। গোটা রাজ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে ১০ লক্ষ ৪ হাজার। এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে সেই সকল গোষ্ঠীর মহিলারাই। গত বছর সরস মেলায় বিক্রির অঙ্কটা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায়। তবে এবারে বিক্রিবাটার যেমন ঢল নেমেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, এই বছরে বিক্রির অঙ্কটা আরও বাড়তে পারে অনেকটাই। সবমিলিয়ে জমজমাট শিলিগুড়ির সরস মেলা।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি