Story
মাটির গয়নায় স্বনির্ভর গাইঘাটার মহিলারা । বাংলার এক সুপ্রাচীন শিল্প হচ্ছে টেরাকোটা। আর টেরাকোটা বলতে প্রথমেই মনে পড়ে বাঁকুড়ার কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শিল্প পেরিয়েছে বাঁকুড়ার গন্ডি। মাটির শিল্প তো অনেকেই বানান। সেই কাজে অনেকে পটুও বটে। মাটির শিল্পের পাশাপাশি টেরাকোটার গয়না মহিলাদের বিশেষ আকর্ষণ করে সে কথা বোঝেন এখানকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। শুধু গয়না নয় একের পর এক মৃৎ শিল্পকলায় স্বনির্ভরতার ছোঁয়া আসলো শ্রীমার আঙিনায়।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের ঠাকুরনগর গ্রামে পা দিলে দেখা মিলবে এই শিল্পের। যেখানে ২০১৬-১৭ সাল থেকে শ্রীমা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা একসাথে করে আসছেন এই শিল্পসৃষ্টির কাজ। যা আজ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রাশুরুতে ১২ জন সদস্য নিয়ে শিল্পসৃষ্টির কাজে নামেন এই গোষ্ঠীর কর্ণধার অর্পিতা বিশ্বাস।
শ্রীমা স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যে শুধু মহিলারাই কাজ করেন এমন নয়। এই কাজে হাত লাগিয়েছেন মহিলাদের স্বামীরাও। স্বনির্ভর হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই।
কিন্তু কিভাবে চলে এই টেরাকোটার একেকটি শিল্পকর্ম? আর কিভাবেই বা তৈরি করেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা? জানা গেল এই গোষ্ঠীর এক সদস্যা তাপসী কর্মকারের কাছ থেকে।
গয়না থেকে ঘর সাজানোর জিনিস অথবা উপহার – প্রতিটি সৃষ্টিতেই রয়েছে টেরাকোটার ছোঁয়া। এমনকি তাঁদের তৈরি উপহার পৌঁছে গিয়েছে অমিত শাহ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- প্রত্যেকের কাছেই।
আজ শ্রীমা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ রাজ্য ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের প্রত্যেকটি রাজ্যে। কেন্দ্র থেকে রাজ্য স্তরের প্রতিটি মেলাতে দেখতে পাওয়া যায় তাঁদের। কিন্তু করোনার থাবা যে এদের ব্যবসাতেও বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। আর সরকারি সাহায্য?
টেরাকোটা মানেই বাঁকুড়া এই ধারণা আজ ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে শ্রীমা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। মেলায় বিক্রি না হওয়া এমন বহু জিনিস আজ রয়েছে এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছে। কিন্তু বিক্রি কম হলেও থেমে নেই তাঁদের হাতে তৈরি টেরাকোটার শিল্পকর্ম।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা