Story

প্রথাগত চাষ পদ্ধতিতে চাষের অবস্থা এখন ভাঁড়ে মা ভবানী। তার ওপর বিষফোঁড়ার মত রয়েছে ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সব মিলিয়ে কৃষকের অবস্থা এখন দু’কূল যাওয়ার মতনই। তাই চাষিরা এখন ঝুঁকছেন বিকল্প চাষের দিকে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর চিরাচরিত লাভের থেকে আরেকটু বেশি লাভের আশায়। যেমন নদীয়ার কৃষক হাসানুর জামান।
নদীয়া জেলার হরিণঘাটা ব্লকের সিংগা গ্রামের কৃষক হাসানুর জামান। তিনি চাষ করছেন এমনই একটি ফসল যা তাঁকে দিনের শেষে ভালো লাভের মুখ দেখাচ্ছে। সুইট কর্ন বা মিষ্টি ভুট্টা। দেখতে অনেকটা ভুট্টার মতো হলেও বেশ সুস্বাদু এই ফসলটির জনপ্রিয়তা শহর থেকে মফস্বল সর্বত্রই বেড়েছে। খাদ্যগুণে সমৃদ্ধ এই ফসলের চাষ হচ্ছে নদীয়া জেলার হরিণঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা। এই তিন মরশুমেই চাষ হচ্ছে মিষ্টি ভুট্টার। চাষে যেমন ঝুঁকি কম, তেমনি খরচের বহরও নেই। দিনের শেষে লাভের দিকটাতেও অনেকটা নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।
এক বিঘা জমিতে লাগানো যেতে পারে প্রায় ৬ হাজার গাছ। প্রতিটা গাছ থেকে পাওয়া যায় গড়ে দুটি করে ফসল। গড় দাম প্রতি পিস ৫ টাকা করে হলে কৃষকের আয় পৌঁছে যায় ৬০ হাজার টাকায়। তবে এই চাষ করার জন্য কৃষকদের অবশ্যই কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনেই চাষ করা উচিৎ। কারণ কৃষকদের মাথায় রাখতে হবে, এই চাষ করার জন্য জলের প্রয়োজন অনেকটাই কম লাগে।
চাষিদের উদ্দ্যেশ্যে কৃষি বিজ্ঞানীর বক্তব্য, ভুট্টা চাষ করতে গেলে সবার আগে কৃষিবিজ্ঞানীদের পরামর্শের প্রয়োজন যেমন রয়েছে। তেমনি কৃষকবন্ধুদের খেয়াল রাখতে হবে মার্কেটিংয়ের দিকটাও।
মানুষের খাদ্য তালিকায় বড় জায়গা দখল করে আছে ভুট্টা। আর ভুট্টার পাতা থেকে গাছের কান্ড, ভুট্টার দানা থেকে ভুষি, সবটাই ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া হাঁস-মুরগির খামারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ভুট্টা চাষ যেন কৃষকদের কাছে অনেকটাই আশীর্বাদের মতন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সঠিক উপায়ে কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শে ভুট্টা চাষ করলে কৃষকবন্ধুদের পরিশ্রম এককথায় সার্থক হবেই।
দেবস্মিতা মণ্ডল
নদীয়া