Story

এ যেন আটের সঙ্গে মিশে যাওয়া আশির। মাঠে নেমে মাটির সঙ্গে খেলা কচিকাঁচাদের। সঙ্গ দেওয়া বয়স্কদের। প্রবীণ আর নবীনের এতো সুন্দর মিশেল যে পিকনিকের মাধুর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে, সে কথা হলফ করে বলাই যায়। আর সঙ্গে যদি ফিরে আসে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলা। তাহলে তো কথাই নেই।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর ও গাইঘাটা থানার সীমান্ত লাগোয়া পুবালি গাজনা বাড়ুইপাড়া গ্রাম। একেবারে প্রত্যন্ত এই গ্রামের বাসিন্দারা মূলত জেলে এবং পাড়ুই সম্প্রদায়ের। এদের কারুর পেট চলে মাছ ধরে তো কেউ করেন দিনমজুরের কাজ। কিন্তু সত্যি বলতে এই প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে সেইভাবে শিক্ষার আলো গিয়ে কোনদিন পৌঁছয়ইনি। অর্থকষ্ট এবং দারিদ্র্য যাদের নিত্যসঙ্গী, তাঁদের বাড়ির কচিকাঁচারা আজ শিক্ষার আলো দেখতে পাচ্ছে। এবার তাদের নিয়েই মজা এবং খেলাধুলোয় মেতে উঠলেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। বছরের শেষ রবিবার গ্রামের আমবাগানে বনভোজনের ব্যবস্থা করে শিশুদের সঙ্গে মিশে গেলেন প্রবীণরা। আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো।
এই গ্রামে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বেশকিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা। কোভিড পরিস্থিতিতে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, তখন কোন ভাবে যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে তাই তাদের গ্রাম থেকে ডেকে নিয়ে বিনে পয়সায় পড়াশোনা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁরা। তাই গ্রামের এই কচিকাঁচাদের নিয়ে বনভোজনে মেতে ওঠার আনন্দের মাধ্যমে তাদের সার্বিক বিকাশ কামনা করছেন তাঁরা।
এই সকল কচিকাঁচাদের হাত ধরে কেউ পিকনিক করতে আসেনা। তাদের মনে পিকনিকের আনন্দটুকুই যেন বহুদিনের রেশ হয়ে থেকে যায়। খাওয়া দাওয়া, নাচ, গান বিভিন্ন ধরণের খেলা। সবমিলিয়ে পিকনিকের দিনগুলো যেন এই শিশুদের কাছে হয়ে ওঠে দারুণ স্পেশ্যাল।
এই ধরণের পিকনিকের আয়োজন নিঃসন্দেহে এই প্রান্তিক শিশুগুলির মুখে হাসি চওড়া করে দেয়। যে শিক্ষিকারা ক্লাসে গুরুগম্ভীর পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার পাঠ দিয়ে থাকেন ছাত্র-ছাত্রীদের, আজ তারাই হাসি-ঠাট্টা মজার খেলাধুলায় মেতে গেলেন ছোটদের সাথে।
আজকের এই পিকনিকের মাধ্যমে বড়রা মিশে গেলেন শিশুদের সঙ্গে। অনেকেই আবার ফিরে গেলেন ছোটবেলার সেই পুরনো স্মৃতিতে। এভাবেই শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে পড়ুয়াদের সম্পর্কের বাঁধন আরো দীর্ঘস্থায়ী হোক। প্রত্যন্ত গ্রামের এই খুদে পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশ ঘটুক। আপাতত সেই স্বপ্নই দেখছেন গ্রামবাসীরা।
দেবস্মিতা মণ্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা