Trending
হকার উচ্ছেদ দিয়ে রনং দেহী মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী। ধরপাকড়, দোকান ভাঙা, হকার গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় বাংলা। আর এরইমধ্যে বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে মমতাকে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সিইএসসি থেকে ৪০০ কোটি টাকা খেয়েছে মমতা। যার ফলে ইলেকট্রিকের দাম বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ সংস্থা। খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কী বলেছেন তিনি? শোনাব আপনাদের…
ইউনিট প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে বিদ্যুতের বিলের খরচ। আর এই সবটাই হয়েছে নির্বাচনী আবহে। সাধারণ মানুষের নাকের ডগা দিয়ে। সাধারণ মানুষ তার আঁচ না পেলেও এবার ইউনিট প্রতি সেই বাড়তি বিল দিয়ে গিয়ে কার্যত নাজেহাল হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, বিদ্যুৎ সংস্থা সিইএসই-র থেকে ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা গিয়েছে তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে। হলদিয়া এনার্জিস নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে টাকা গিয়েছে মমতার ভান্ডারে। আর একটা সংস্থাকে যখন ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে, তখন তাকে ৮০০ কোটি টাকা তুলতেই হবে বাজার থেকে। তো সেই টাকা তুলবেন কোথা থেকে? অবশ্যই সাধারণ মানুষের পকেটের চাপ বাড়িয়ে। আর এবার এই নিয়েই রাজ্য সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ঐ যে কথায় আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। তাই এক্ষেত্রেও টার্গেট সেই সাধারণ মানুষ। একপক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করবে। আর ভুক্তভুগি মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তরা, বিনা অপরাধে তাদের মাসুল গুনতে থাকবে। তবে, একটা সার্বিক প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন? যাই হোক। আবার ফিরে আসা যাক, রাজনৈতিক প্রসঙ্গে।
ওইটুকু বলেই ক্ষান্ত থাকেননি রজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী আবহে খুব চুপিসারে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সিইএসই। এবং এই সবটাই হয়েছে রাজ্যের মদতে। এখন হকার উচ্ছেদের হাইপ তৈরি করে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে রাখা হচ্ছে। ট্যারিফ পরিবর্তন করায় সিইএসই এলাকায় সাধারণ মানুষ সরাসরি সমস্যার মুখোমুখি পড়েছে। যার জেরে ভয়ানক সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তরা। তাদের মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অবরোধ নামিয়ে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বিষয়ে শাসকদলের তরফে কী মন্তব্য শোনা গিয়েছে? তা শোনাব আপনাদের।
শাসক দলের হয়ে সাফাই দিয়েছেন স্বয়ং কুনাল ঘোষ। তিনি জানিয়েছে, সিইএসই একটি বেসরকারি সংস্থা। তার সিদ্ধান্তে রাজ্যের হাত থাকে না। তবে, বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতর নাকি কড়া বার্তা দিয়েছে সিইএসই-কে। রাজ্য সরকারের যা যা করা উচিৎ, তাই তাই নাকি তারা করেছে। সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য সিইএসই-র কর্মকর্তাদের কাছ আর্জি আনিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই রাজ্যে একটা বেসরকারি সংস্থা ব্যবসা করছে। আর সরকারের পরামর্শ না মেনেই বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে চলেছে। এই বিষয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, সিইএসই কী নাছোড়বান্দা নাকি নিজের দোষ ঢাকতে অন্য দিকে নজর ঘোরাচ্ছে শাসকদল?
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে যখন দেশ তোলপাড় হয়েছে, তখন দেখা গিয়েছিল শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন এক সংস্থা থেকে তৃণমূল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা পেয়েছিল। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেই তৃণমূল সরকারকে বিঁধেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আবহে যখন সকলে ভোটের হালহকিকত জানতে মশগুল, ঠিক তখনই নাকি বিদ্যুতের বিল বাড়িয়েছে সিইএসই। কোথাও দ্বিগুণ কোথাও তিনগুণ হারে ট্যারিফ বাড়িয়েছে এই বিদ্যুৎ সংস্থা। রাজ্যের রেগুলেটরি বোর্ডের অনুমদনে এই সবটা হয়েছে। রাজ্য সরকার নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে রাখতে এখন হকার উচ্ছেদ নিয়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন।
বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে তাই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সিইএসই-কে। এই ডেডলাইনের মধ্যে যদি সংস্থা বিদ্যুতের বিল সংশোধন নিয়ে কোন পদক্ষেপ না নেয়, সেক্ষেত্রে নাকি বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন শুভেন্দু অধিকারী এবং তার দল। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকারের রেগুলেটরি বডিকে কার্যত ডেডলাইন দিয়েছেন তিনি।
তবে ঐ যে বললাম, কথায় আছে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়। উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! কথাটা বোধ হয় আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন সাধারণ মানুষ। শাসক দল- বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক তরজা- চলছে, চলবেও। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিদ্যুতের বিল-ইত্যাদি সামাজিক প্রসঙ্গে নানান বৈঠক হবে। গলা উঁচিয়ে হুংকারও শোনা যাবে। রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলবে। একপক্ষ অপরপক্ষের দোষ দেখিয় দেওয়া চলবে। কিন্তু সমস্যার সমাধান? সেটা হয়তো বহাল থাকবে। আজ হকার উচ্ছেদ নিয়ে এত হাইপ। সাধারণ মানুষের এত আহা-উহু। কাল অন্য কোন ইস্যু তৈরি হলে সেই হকার উচ্ছেদ সমস্যা হয়েই পরে থাকবে। আর নতুন ব্রেকিং সমস্যা হবে অন্য কোন ইস্যু। আর যতদিন সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার নিয়ে নিজে না আওয়াজ তুলবে, ততদিন এই ছবিটা একই থাকবে। তাই প্রশ্ন করুন, নিজের অধিকার নিয়ে চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন কউন। সঙ্গে দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ। জীবন হোক অর্থবহ।