Daily
বি পি এন ডেস্কঃ টালির চাল, অ্যাজবেসটসের দেওয়াল। একটা ছোট্ট ঘর। ঘরের মধ্যে সার দিয়ে দাঁড় করানো ট্রফি। রয়েছে ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের সার্টিফিকেট, রয়েছে ইস্টবেঙ্গল স্কুল অফ এক্সিলেন্সের কার্ড। আর রয়েছে ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন। একজনের বয়স বারো এবং আরেকজনের দশ। দুজনেই ইস্টবেঙ্গল অনূর্ধ্ব ম্যাচ দাপিয়েছে। গত আইএসএল লিগে একজন ২১ ম্যাচে ১০ টি গোল করে, ৪টিতে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছে। আরেকজন ২১ ম্যাচে ৩০টি গোল করে ১২ বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচের খেতাব কুড়িয়ে নিয়েছে। ছোট থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে যেন ভর করেছে মেসি আর রোনালদো। আর দুই ছেলের কীর্তি দেখে বাবা, মা। কিন্তু সবক্ষেত্রে তো ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ হয় না। বাবা কেনা রায় লরির খালাসি আর মা অমিতা রায় লোকের বাড়িতে কাজ করেন। আদ্দেক দিন খাবার জোটে তো আদ্দেক দিন নয়। এদিকে খেলোয়াড় বানাতে গেলে সুষম পুষ্টির প্রয়োজন। কিন্তু সন্তানের সাফল্য সকল বাপ-মাই চায়। তাই বহু কষ্টে ধার দেনা করে ছেলে শুভজিৎ রায়কে পাঠানো হল পাঞ্জাবে। আগামী দশ বছরের জন্য শুভজিতের সকল দায়িত্ব নিতে চলেছে মিনার্ভা পাঞ্জাব। পড়াশুনো সহ সমস্ত দায়-দায়িত্ব তো নিচ্ছেই একইভাবে তাদের উদ্দ্যেশ্য বাংলার মছলন্দপুরের খেজুরবাগানের শুভজিতকে খেলোয়াড় তৈরি করা। ছেলের সাফল্য দেখার জন্য মা অমিতা রায়ও রাজি। কিন্তু যতই হোক মা তো। ঐটুকু ছেলেকে দূরে সরিয়ে দিতে চোখ ভিজে এলো তাঁরও। মেলেনি প্রশাসনিক সাহায্য। ক্ষোভের কথা শোনালেন স্বয়ং মছলন্দপুরের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। শোনা যায় ক্রিশ্চিয়ানা রোনাল্ডোর কৈশোরে আর্থিক স্বচ্ছলতা ভালো ছিল না। তার মধ্যেই নিজের চেষ্টায় আজ সে কিংবদন্তি। কে বলতে পারে, আগামী দিনে হয়ত মছলন্দপুরের এই ছোট্ট শুভজিতকেই একদিন গোটা ভারতবর্ষ চিনবে একডাকে। সেই আশাতেই বুক বেঁধেছে মছলন্দপুরের খেজুরবাগান।