Story
বি পি এন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের কৃষিভিত্তিক জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষ জীবন জীবিকার জন্য এখনও প্রথম পছন্দ কৃষি। সুবর্ণরেখার তীরের এই জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন তাই জোর ব্যস্ততা। চৈত্রের আগেই জীবনের রসদ গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত আখ চাষিরা। আখের গুড়ের বিকিকিনির খুচরো বাজার সারাবছর থাকলেও হোলসেল বাজার বন্ধ হয়ে যাবে বৈশাখের আগেই। একথা ভালো করেই জানেন চাষিরা। ঝড় বৃষ্টি শুরুর আগেই কাজ শেষ করতে হবে।
গুড় তৈরি হয় এখনও খোলা আকাশের নিচে। চড়া রোদে। ব্যস্ততার এই ছবি ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী ব্লকের নছিপুর, বাঘাস্তি সহ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায়। জমির মালিক থেকে ভাগচাষী। কৃষি মজুর সবাই নাগারে কাজ করে চলছে। গৌরহরি পাতর, চৈতন্য সাঁতরাদের এখন দম ফেলার ফুরসৎ নেই।
মাটির উনুনে লোহার টবের চুলায় আগুন জ্বলছেই। নিভবে ঠিক সন্ধ্যের আগে। পুরো কাজের শৃঙ্খলায় কাজ করে চলেছে সবাই। কেউ মাঠে আখ কাটছে। কেউ গাছে লেগে থাকা শুকনো পাতা, লতা ছাড়াচ্ছে। কেউ সেগুলিকে ক্রাশিং মেশিনের সামনে রাখছে। কেউবা সাবধানে মেশিন থেকে রস সংগ্রহ করে চুলার টবে ঢালছে।
টাড়রা গ্রামের বাদল চন্দ্র ঘোষ। আখ চাষ করেন প্রতিবছর। কিন্তু এ বছর ওর সুর কেমন বেসুরো। পড়তি বাজারে এত খেটেও মিলছে মনের মত দাম। ভয় রয়েছে হাতির পালের। (বাইট…বাদল চন্দ্র ঘোষ, আখ চাষি ১.০৬ সেকেন্ড থেকে ১.২০ সেকেন্ড)। দাম তুলনায় এবছর বাড়েনি। কমেছে। চাষের খরচের ফিরিস্তিও দিলেন উৎসাহী চাষি বাদল। (বাইট…বাদল চন্দ্র ঘোষ, আখ চাষি ১.২৩ সেকেন্ড থেকে ১.৫৫ সেকেন্ড)। নিজের জমি থাকলে যাও বা লাভের মুখ দেখা যায় কিন্তু ভাগের জমিতে ফসল ফলিয়ে তার লাভ ঘরে তোলা কষ্টকর হয়ে গিয়েছে চৈতন্য সাঁতরার মত চাষিদের। মজুর লাগিয়ে হাতে কি তার সবিস্তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল এনার কাছে। (বাইট…চৈতন্য সাঁতরা, ভাগচাষী, বাইট- ১২ থেকে ১৬ সেকেন্ড। ব্যাক টু ব্যাক ৩৭ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট)। এরপরে রয়েছে করোনার জেরে মজুরের বাড়তি দাম। (বাইট- চৈতন্য সাঁতরা, ভাগচাষি ১.০৯ সেকেন্ড থেকে ১.১৫ সেকেন্ড)।
এক টবে হয় সাতাশ কেজি গুড়। যা দিয়ে ভরা হয় চারটি মাটির ঠিলা। গড়ে ঠিলা প্রতি ওজন হয় গড়ে সাড়ে ছ’কেজি গুড়। বাজার পড়লেও কিছুটা সাশ্রয় হয় জ্বালানিতে। নিড়ানো আখের ছালই এখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফসলের ন্যুনতম সহায়ক মূল্য থাকলেও তার বাইপ্রোডাক্টেও সরকারি সহায়ক মূল্য থাকা উচিৎ।