Story
ইতিমধ্যেই বাংলার মাঠেঘাটে রবি মরশুমের ফসল চাষ করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন বাংলার চাষিরা। কারণ সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে এখনো মাঠে মাঠে জল থেকেই গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে খারিফ মরশুমের প্রধান শস্য ধান। তবুও বাংলার চাষিদের চাষকে লাভজনক করতে উঠেপড়ে লেগেছে রাজ্যের কৃষি দফতর।
কৃষি দফতরের পরামর্শ রবি মরশুমে আপনি ধান, গম, ছোলা, জোয়ার, বাজরার পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেও লাভবান হতে পারেন।
যেভাবে তৈলবীজের দাম ক্রমশ বাজারে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, সেখানে কৃষি দফতরের পরামর্শ চাষিরা যদি একটু প্রচলিত চাষের পরিবর্তে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন, তবে যে তাঁরা শুধু লাভের মুখ দেখবেন তাই নয়। হতে পারেন লাখপতিও।
সূর্যমুখী চাষে খুব সহজেই কৃষকরা খারিফের ক্ষতি পুষিয়ে ঘরে তুলতে পারবেন লাভের অঙ্ক। তাই কৃষি দফতরের পরামর্শ, বাংলার কৃষকরা যদি এবার একটু এই বাণিজ্যিক ফুল যা ভোজ্য তেলের বাজারে খুবই চড়া দামে বিক্রি হয় সেই সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করলে ক্ষতির বহর অনেকটাই কমে আসবে।
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যমুখী চাষে সবচেয়ে প্রধান দুটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়। এক হচ্ছে, দুটি চারার মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি প্রথম বীজ বপনের ২০ দিন বাদে এবং দ্বিতীয় বীজ বপনের ৪০ দিন বাদে আগাছা নাশ করাটাই কৃষকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর কৃষকরা যদি একটু সতর্ক হয়ে এই কাজটা করতে পারেন তাহলে তাঁরা প্রথম রাতেই লাভের ঘরে যাতে বিড়ালের নজর না পড়ে, সেই বিড়ালটাও মেরে দিতে পারবেন। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে, সূর্যমুখী চাষে সেচ একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। সূর্যমুখী চাষে তিনটি পর্যায়ে জলসেচ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। প্রথম হল উদ্ভিদ পর্যায়ে সেচের দরকার। দ্বিতীয়ত ফুলের পর্যায়ে যেমন সেচের দরকার থাকে। তেমনি পরিমিত সেচের প্রয়োজন হয় ফুল ফোটার পর্যায়।
আসুন দেখে নেওয়া যাক, এই ফুলের চাষ করতে ঠিক কত টাকা খরচ হয়।
সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতে কৃষকের খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
এক হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষক পেতে পারেন ২৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফসল।
আর বাজারে প্রতি কুইন্টাল সূর্যমুখী ফুলের বীজ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। ফলে অনায়াসেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকের লাভ গিয়ে দাঁড়াবে ৬০-৭০ হাজার টাকা।
এবার কৃষককে খেয়াল রাখতে হবে মাঠের গাছ যখন ফুলে পরিপূর্ণ, সেই সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যমুখী ফুল ফোটার সময় কৃষককে বীজের ওজন বৃদ্ধির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হয়। বীজের ওজন বেশি হলে তবেই কৃষক বাজার থেকে বেশি দাম ঘরে তুলতে পারবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ফুল ফোটার সময় এবং এর আটদিন পর থেকে কৃষক প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম বোরাক্স ছিটিয়ে দেবেন। এই বোরাক্স একদিকে যেমন শস্যকে ভরাট করবে। অন্যদিকে তেমন বীজের ওজন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে। তবে কৃষককে মাথায় রাখতে হবে ফুল আসার সময় কোনরকম কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। ফল কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।
তাহলে চাষিভাইরা দেখলেন তো। প্রকৃতির রোষে যখন বাংলার কৃষকরা একটু হলেও দিশেহারা হয়েছেন, সেই সময় আপনাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। হ্যাঁ, রবি মরশুমে দাঁড়িয়েও আপনি সূর্যমুখীর মত বাণিজ্যিক ফুলের চাষ করেও ঘরে তুলতে পারেন বিরাট লাভের অঙ্ক। পুষিয়ে নিতে পারেন খারিফের ক্ষতিটা। তাই আর দেরি করছেন কেন বন্ধুরা? আজই আপনার নিকটবর্তী কৃষি দফতরে গিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষের বিষয়ে বিশদে যোগাযোগ করুন। আর আনন্দে থাকুন।
তবে হ্যাঁ। এই প্রতিবেদনটি যদি আপনার কাজে লাগে তবে সেখানেই আসবে আমাদের পরিশ্রমের সার্থকতা। তাই প্রতিবেদনটি লাইক করুন, শেয়ার করুন। আর সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেল বিজনেস প্রাইম নিউজ। আর আমাদের অ্যাপটি ডাউনলোড করতে ভুলবেন না। অ্যাপের লিঙ্ক নিচের ডেসক্রিপশনে দেওয়া হল।
ব্যুরো রিপোর্ট