Story

একে করোনার জোরালো অভিঘাত। দুয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আর এই জোড়া ফলায় বেহাল অবস্থা হয়েছিল বাংলার মাছচাষিদের। ব্যপক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের। ক্ষতির বোঝা সবথেকে বেশি চেপেছিল সুন্দরবন লাগোয়া বিভিন্ন এলাকার মাছচাষিদের কাঁধে। কিন্তু সব ক্ষতি ভুলে গিয়ে আবারো নতুন করে নেমে পড়ার প্রস্তুতি নিলেন মাছচাষিরা। সেই ব্যস্ততার ছবিটাই ধরা পড়ল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া ব্লকের সুন্দরবন লাগোয়া ঝাঝা গ্রাম। এই গ্রামের সিংহভাগ মানুষের পেশা মাছ চাষ। মাছ চাষ করেই তাঁরা সংসার ঠেলছেন বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু একদিকে যখন করোনার থাবা পড়ায় মাছ ব্যবসা ব্যপকভাবে ধাক্কা খেয়েছিল। তেমনি অন্যদিকে মাছের বিভিন্ন রোগ এবং ফলন কম হওয়ায় মৎস্যচাষিদের লাভের অঙ্ক নেমে আসে একেবারে তলানিতে। তবে মাছ চাষই যখন তাঁদের রুজিরুটি, তখন আবারো নতুন করে মাছ চাষের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন তাঁরা।
এখানকার অধিকাংশ মানুষ চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত। গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি বা ভেনামি চিংড়ির মত বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি মাছের চাষ করেন তাঁরা। আর বাকিরা জড়িত এই মাছের ব্যবসার সঙ্গে। এখানকার মাছ শুধু দেশের বাজারে নয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও চলে যায় এখানকার গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি।
সাধারণত নোনা জলে মাছ চাষ হয় মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর মাস। বাকি তিন মাস থাকে পুকুর প্রস্তুতিকরণের জন্য। মাছচাষিরা এখন নতুনভাবে পুকুর সংস্করণ করে চিংড়ি মাছ সহ বিভিন্ন মাছের মিন পুকুরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নদীর নোনাজল ঢুকিয়ে সেই জল শোধন করে বিভিন্ন নোনা মাছের চারা ছাড়ার পর শুরু হবে পরিচর্যা। তারপর মে-জুন মাস থাকে বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু হবে। বিক্রির মরশুম থাকে টানা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। আপাতত সেদিকেই লক্ষ্য রেখে, গত দু’বছরের ক্ষতির অঙ্ক ভুলে গিয়ে আবারো নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া ব্লকের সুন্দরবন লাগোয়া ঝাঝা গ্রামের মাছচাষিরা। ভালো লাভের আশায়।
দেবস্মিতা মণ্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা