Story
শীতের দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে নরম রোদে গা এলিয়ে কমলালেবু খাওয়ার মজাই আলাদা। আর সেটাও যদি হয় পাহাড়ের বুকে, খোদ কমলালাএবু গ্রামে- তাহলে মন্দ হয় না! কী বলেন?
পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম শিটং। আকাশ ভরা মেঘ, আর মেঘের মাঝে পাহাড়৷ শীতকালে চারিদিকে কমলালেবুর বাহার৷ স্বাদেও একঘর!
শীতকালে নর্থ বেঙ্গল যাওয়ার মানুষ তো কম নয়। কিন্তু ঐ গতে বাঁধা দার্জিলিং, ডুয়ার্সের বাইরে প্ল্যান করে ঘোরার মানুষের সংখ্যাটা কম। কাজেই শিটং অনেকের কাছেই বেশ অপরিচিত নাম। যতটুকু পরিচয় ঐ কমলালেবুর মারফৎ-ই। এখানাকার কমলালেবুর কদর এতটাই, যে প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখানে কমলালেবু ফেস্টিভ্যাল পালন করা হয়। দেশী-বিদেশী প্রচুর পর্যটকের ভিড় জমে ঐ সময়। তবে সেই ফেস্টিভ্যাল স্পেনের টমাটিনা ফেস্টিভ্যালের মতো কি না- সেটা ফেস্টিভ্যালে গেলেই বোঝা যাবে।
ঠান্ডার সময় দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় যে ধরনের কমলালেবু পাওয়া যায় তা ভারত শুধু নয় ভারতের বাইরে ও প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই পর্যটনের পাশাপাশি কমলালেবু চাষ এখানকার অন্যতম অর্থনৈতিক ভিত্তি। দেশের বিভিন্নপ্রান্তে তো বটেই। বিদেশেও রপ্তানি হয় এখানকার সুস্বাদু কমলালেবু।
কাশ্মীরে যেমন বিভিন্ন আপেল বাগান ঘুরে দেখার মজা নিতে পারেন পর্যটকেরা, সেইরকমই সুবিধা রয়েছে এখানেও। তার জন্য পর্যটকদের খরচা করতে হয় মাথাপিছু ৫০ টাকা। আর এই ৫০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে তারা কমলালেবু বাগানে গিয়ে ফটো তুলতে পারেন এবং কমলালেবু গাছ থেকে একটি কমলা লেবু পেরে খেতে পারেন।
এমনিতেই জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়েছে। আর খবর পাওয়া যাচ্ছে, এবছর নাকি দার্জিলিং, কালিম্পং-এ কমলালেবু উৎপাদনও বেশ ভালো হয়েছে। কাজেই এই উইকএন্ড-এর ছুটিতে একবার ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন ছোট্ট এই পাহাড়ি গ্রামটিতে৷
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি