Story
শোলা শিল্পে সংকট! যে শোলার সাপ্লায়ার স্বয়ং প্রকৃতি, আজ সেই শোলা শিল্পই সংকটে। ঠিক কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আন্দাজ করতে পারছেন? লোকমুখে প্রচলিত- ইতিহাসের গরিমা মেশান এই শোলা শিল্প নাকি আজ বিলুপ্তপ্রায়। একটা শিল্প, যার সঙ্গে জুড়ে হাজার শিল্পী এবং তার পরিবারের রোজনামচা, সেটা বিলুপ্ত হয়ে গেলে কী সাংঘাতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, ভাবলেই গা শিউড়ে ওঠে। চারিদিকে রোজ রোজ কতকিছু ঘটে। কিন্তু দেখুন, শিল্পীদের দিন আর বদলায় না।
পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। আর ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যে শিল্পীদের সবচেয়ে বেশি হাসিখুশি থাকার কথা, ব্যস্ত থাকার কথা- তাদের মুখেই হাসি নেই। আপনারা সকলেই জানেন, শোলা বর্ষাকালীন জলজ উদ্ভিদ। কিন্তু প্রকৃতিরও এমনই অভিমান, যে সময়মত সে সহায়ও হচ্ছে না। চারপাশে তাকিয়ে দেখুন জলাভূমিগুলো কীভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। গত দু-তিন বছরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিই হয়নি, তো শোলা আসবে কোথা থেকে?
আজ একজন শিল্পীর কথা শুনছেন। কিন্তু এই সংকটটা আরও হাজার হাজার শিল্পীর। কিন্তু থেমে থাকলে তো চলবে না। শোলার অভাবে নতুন প্রজন্মের কেউই এই শিল্পের দিকে পা মারাচ্ছেন না। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে শোলার কাজ করে আসছেন, শুধু এটা নিয়েই থাকবেন বলে ভেবে এসেছেন জীবনের বেশিরভাগ সময়টা ধরে, তারাই সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই শিল্প টিকিয়ে রাখতে বিকল্প উপায় বেছে নিতে হয়েছে তাদের।
আসলে সারা বছর ধরেই বাঙ্গালীর পুজো পার্বণ লেগেই থাকে। সেক্ষেত্রে ডাকের সাজের চয়েস থাকে সব্বার আগে। কিন্তু চাহিদা থাকলেই তো হল না, যোগানটাও তো থাকতে হবে। সঙ্গে আবার মূল্যবৃদ্ধি। একে রামে রক্ষে নেই, সুগ্রিব দোসর। কাজেই আর কোন উপায় নেই। তাই জোড়াতাপ্তি দিয়েই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন শিল্পীরা।
আচ্ছা, সরকারী সাহায্যও পেলে বেহাল শিল্প হালে ফিরলেও ফিরতে পারে। কিন্তু গ্রাম-বাংলার এই কুটির শিল্পগুলোকে, বাংলার এই শিল্প-সম্ভাবনাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা কী কোন উদ্যোগ নিতে পারি না? যারা কৃষিঅর্থনীতির উন্নতি নিয়ে পড়াশুনো করছেন, বা গবেষণা করছেন- এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার দায় কি তাদেরও নয়? কৃত্রিম উপায়ে শোলা চাষ কীভাবে করা যায় একবার ভেবে দেখতে পারেন কিন্তু।
সুব্রত সরকার
নদীয়া