Daily
অনুপ জয়সওয়াল, উত্তর দিনাজপুরঃ ফাগের আকাশে দোলের উল্লাস এবার নাই বা হল। কিন্তু চৈত্রের আকাশে দোল এসে পড়ায় ব্যস্ততার সীমা নেই ওদের। সারা বছর মাশরুম সহ হরেক রকম কাজ করলেও এবারের পরিস্থিতিটা অন্যান্যবারের চাইতে একটু আলাদা। করোনার মেঘ সরিয়ে এই চৈত্রেই গোটা বাংলা মজবে রঙের আনন্দে। আবির ছাড়া রঙের আনন্দ অনেকটাই সুন্দর রান্নায় নুন কমের মত। আনন্দের হাটে নুনের জায়গায় ওরা হাজির করছে ঘরোয়া পদ্ধতিতে হার্বাল আবির। উত্তর দিনাজপুরের ধন্দুগছ গ্রামের অন্নপূর্ণারা দশ হাতে তৈরি করছেন এই নতুন আবির। যার চাহিদা এখন তুঙ্গে। মিটবে সংসার চালানোর অনেকদিনের রসদ।
আবির তৈরির উপকরণ হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন বিট, গাঁদা ফুল, হলুদ, সিঁদুরি ফলের মত প্রাকৃতিক উপাদান। এই সকল ফল ও ফুলের রস তৈরি করে অ্যারারুটের সঙ্গে মিশিয়ে মহিলারা তৈরি করছেন বিভিন্ন রঙের আবির যেমন হলুদ, গোলাপি, কমলা, সবুজ।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এই মহিলাদের উদ্দ্যেশ্য রং খেলা হোক কিন্তু স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রেখে। গোষ্ঠীর মহিলারা প্রত্যেকেই কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ তাঁরা এক মাসের এই কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছেন। প্রায় দু কুইন্টাল আবির তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এঁদের। কারণ, মানুষ আগের থেকে অনেকটাই সচেতন হয়েছেন। তার ফলে কেমিক্যাল মেশান আবিরের থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আবিরের জনপ্রিয়তাই বাড়ছে।
যদিও আবিরের এই ব্যবসা খুব বেশিদিনের নয়। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁরা এখন দশ হাত এক করে প্রস্তুত করছেন ভেষজ আবির। বিক্রি করে লাভের মুখও দেখছেন। স্থানীয় মার্কেট থেকে বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং স্কুলে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন হাতে তৈরি আবির নিয়ে। ভেষজ আবিরের বিক্রি যে ভালোই, সে কথা স্বীকার করছেন খোদ বিক্রেতাই।
বছরে একবারই মাত্র রং তৈরির সময়। তবু উৎসাহে পড়ে নি ভাটা। গতবার দেড় কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করা হয়েছিল। এবারে আরও বেশি পরিমাণ তৈরির টার্গেট নিয়েছেন ধন্দুগছ শক্তি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। প্যাকেট তৈরি হবে ১০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির।।
উত্তর দিনাজপুর থেকে অনুপ জয়সোয়ালের রিপোর্ট, বিজনেস প্রাইম নিউজ