Story
বিষ্ণুপুর। এ রাজ্যের মন্দির শহর। যে শহরে শুধু ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর পোড়ামাটির গল্প হয়।
তখন মল্ল রাজা জগত মল্লের শাসন। বাংলায়, পাথর সরবরাহে টান! ঠিক তখনই স্থাপত্যের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে পোড়ামাটির ইট। বাংলার স্থপতিরা এর নাম দিলে টেরাকোটা। সেই থেকে শুরু বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা যাত্রা।
তবে টেরাকোটা বা বালুচুরি শাড়ীর বাইরে বিষ্ণুপুর মানে আরও অনেক কিছু, আরও অনেক শিল্প। এই যেমন ধরুন, সেখানকার শাঁখারী বাজার। একটা ছোট্ট শঙ্খ রাজ্য বলা যেতে পারে। ইতিহাস নয়, গল্পটা বরং বর্তমান থেকে শুরু করা যাক।
২০০-২৫০ পরিবার, একঝাঁক জাতীয় পুরস্কার পাওয়া শিল্পী, আর নতুন নতুন সম্ভাবনার ঠিকানা এই শাঁখারী বাজার। পুরুলিয়া, গড়বেতা, বর্ধমান, কোলকাতা- দেশের যে প্রান্তে যাবেন, এই শাঁখারী শিল্পীদের নজরকারা ডিজাইনের শাঁখা আপনারা পাবেনই পাবেন।
তবে, কী জানেন তো? শিল্প তো! কোনদিনই সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, হয়ও না। হবে কী? কেউ জানে না। সরকারও উদাসীন। সমাজও উদাসীন। আর এই উদাসীনতার কারণে কাজ ছাড়ছেন শিল্পীদের নতুন প্রজন্ম। প্রশ্নের মুখে শিল্পের ভবিষ্যৎ।
এত খারাপ কিছুর মধ্যেও ভালো খবরটা কী জানেন তো? হাল ছাড়তে নারাজ শিল্পীরা। এদেশ পেরিয়ে বিদেশ পৌঁছচ্ছেন শুধুমাত্র বাংলার শিল্পকে বিশ্বমানের করে তোলার জন্য। আর কী চাই!
শিল্পীরা সঠিক সম্মান পাক। শিল্পের সঠিক মূল্যায়ন হোক। বাংলার এত সম্ভাবনা- উদাসীনতার ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি পাক। সরকারী সাহায্যের চাওয়া তাই নিরন্তন।
সুব্রত সরকার
বাঁকুড়া