Story
সত্যিই মানুষ চাইলে কিই না করতে পারে! বুদ্ধি খাটিয়ে নতুন নতুন ইনোভেশন। সেটা দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে আবার কখনো কখনো নিজের স্বার্থে, নিজের ব্যবসাকে খানিক বুস্ট করতে। না-হলে কেউ কোনদিন ভেবেছিলেন ভ্রাম্যমান পোর্টেবল হলারের কথা? বিশ্বাস না-হলে জানতে হলে পুরো প্রতিবেদন দেখুন একেবারে শেষ পর্যন্ত।
বিহারের পাশাপাশি আমাদের বাংলাতেও ছাতু খাবার চল রয়েছে ভালোরকম। ছোলার ছাতুর ব্যবহার তাই দিন দিন বৃদ্ধি পায় বৈ কমে না। কিন্তু এখন তো ঘরে-বাইরে প্যাকেট ছাতু বিক্রির ঢল। সেই প্যাকেট ছাতুর মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেও যায়। তাই ছক ভেঙে ছাতু নিয়েই ব্যবসা করছেন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম সরোজ কুমার সনি। যা শুধু ছাতু প্রিয় মানুষের মনে কৌতূহল বাড়াচ্ছে এমনটা নয়। যারা তেমন ছাতু পছন্দ করেন না, তাঁরাও কিন্তু কুর্নিশ করছেন। অন্তত পথ চলতি মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছেন সরোজ কুমার সনির এই অভিনব আইডিয়া। সেটা কী? পোর্টেবল হলার মেশিন ও ছোলার বস্তা মোটর সাইকেলে চাপিয়ে নিয়ে গ্রামে গ্রামে শহরে শহরে ছুটছেন। মোটরসাইকেলেই চাপানো আছে ভাজা ছোলার বস্তা।অর্ডার দিন আর দেখে শুনে হাতে তুলে নিন গরম ছাতু। সরোজ কুমার সনি জানান এই পোর্টেবল হলার ব্যবস্থা মোটরসাইকেলে চালু করতে তার খরচা হয়েছে ত্রিশ হাজার টাকা। বিহার থেকেই হলারের পাশাপাশি ছোলা ও এনেছেন। বর্তমানে তিনি ও তার তিন বন্ধু কল্যাণী মোড়ে ঘর ভাড়া নিয়ে আছেন। আর চুটিয়ে করছেন এই ব্যবসা।
ছাতু খাবার চল নেই এমন বাড়ি পশ্চিমবাংলায় একটু বিরলই বটে। সরোজ কুমার সনির এই অভিনব ব্যবস্থা তাক লাগিয়ে দিচ্ছে ছাতুপ্রেমীদের। প্যাকেটের ছাতু কেমন হবে সেই নিয়ে একটা চিন্তা থেকে যায়। যতক্ষণ না সেই প্যাকেট কাটা হচ্ছে। কিন্তু এখানে! নিজের হাতে দেখে শুনে নিন। তারপর প্রয়োজন মত হাতে তুলে নিন ছাতু, ভ্রাম্যমাণ পোর্টেবল হলারের কেরামতিতে। দেখে শুনে অর্ডার দিচ্ছেন, কেউ এক কেজি, কেউ দু কেজি, কেউবা ৫০০ গ্রাম। মূল্য কেজি প্রতি ১২০ টাকা। ছাতুর দামের দিকে তেমন কেউ তাকাচ্ছেন না। বরং তাঁরা ভালো মানের ছাতু হাতে পাচ্ছেন। এটাই হল গিয়ে কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন। তার ওপরে আর কোন কথা থাকতে পারে?
বিহারের সাঁতরা জেলার বাসিন্দা সরোজ কুমার সনি। বর্তমানে এভাবেই গ্রামে গ্রামে মোটরসাইকেলে ঘুরে বিক্রি করছেন ছাতু। এই পোর্টেবল হলার ব্যবস্থা মোটরসাইকেলে চালু করতে তার খরচা হয়েছে ত্রিশ হাজার টাকা। বিহার থেকেই হলারের পাশাপাশি ছোলা ও এনেছেন। ছোলার ছাতুর মান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। ফলে বিক্রি বাড়ছে। সরোজ কুমার সনির দৈনিক আয় হচ্ছে ৫০০ টাকা মতন। স্বাভাবিকভাবে এমন অভিনব একটা উপায় দেখে কার্যত অবাক অনেকেই। তবে তিনি যে বছরভর এই কাজ করেন এমনটা কিন্তু নয়। ছোলার ছাতু কারবারের পাশাপাশি সময়ে-অসময়ে হকারের কাজ করেন তিনি। তবে সত্যি বলতে কী, আপাতত বিহারের ছাতু ব্যবসায়ী সরোজ কুমার সনি এই ভ্রাম্যমাণ পোর্টেবল হলার নিয়ে বেশ খুশি। কেজি প্রতি ১২০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। যদিও ভালো মান পেলে যে ভালো দাম দিতেও মানুষ আপত্তি করবেন না সেটা সরোজের মত ছাতু ব্যবসায়ীকে দেখে বোঝা যায়। আপাতত এই ব্যবসা করে যে তিনি খুশি, সেটা ভিড় দেখেই বোঝা যায়। সত্যিই, মানুষ চাইলে কিই না করতে পারে তাই না!
সুব্রত সরকার
নদিয়া