Daily
সাল ১৯৫১। বাংলার ঘরে ঘরে হানা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ। শস্য শ্যামল বাংলার মাটি তখন রুক্ষ-রুষ্ট। খাবারের অভাবে চারিদিকে তখন শুধুই হাহাকার। কৃষিতে সমৃদ্ধ বাংলা তখন প্রায় ধুলোয় মিশে যেতে বসেছে। চারিদিকে তখন একটাই স্লোগান “ প্রোডিউস মোর ফুড”। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু হল বাংলার কৃষি অর্থনীতিকে ফের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার মিশন। নতুন উদ্যোগ, নতুন পরিকল্পনা, নতুন ইনোভেশনের সঙ্গে কৃষকবন্ধুদের পরিচয় করানো। নতুন নতুন ট্রেনিং প্রদান করা এবং অবশ্যই তাদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করা। শুরু হল স্টেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজিস্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বা সাটসার যাত্রা।
পশ্চিমবঙ্গের কৃষি কর্মকর্তাদের অ্যাসসিয়েশন সাটসা। যারা বাংলার কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। লক্ষ্য একটাই। কৃষি, কৃষক এবং কৃষি প্রযুক্তিবিদদের সার্বিক উন্নয়ন এবং বিকাশ। আর সেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দ্যেশ্যেই সম্প্রতি কোলকাতার সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত হল স্টেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজিস্ট সার্ভিস অ্যাসসিয়েশনের নবম দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রাম উন্নয়নও উদ্যান পালন বিষয়ক মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনা, কৃষি অধিকর্তা পার্থ সেনগুপ্ত, সাটসার জেনারেল সেক্রেটারি ডক্টর গোষ্ট ন্যায়বান, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্কর দাস প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ২৩ টি জেলার প্রায় প্রতিটি ব্লকের কৃষি প্রযুক্তিবিদরা।
কৃষকদের উন্নতি ছাড়া কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন আনা সম্ভব নয়। তাই কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভিন্ন ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি, সেলফ হেল্প গ্রুপ রবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি রবি শস্য সম্মান প্রদানের পরিকল্পনা নেয় সাটসা। যাতে আগামীদিনে আরও অনেক মানুষ এগিয়ে আসে এবং কৃষিক্ষেত্রের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এদিনের এই আয়োজন। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত শুনে নেব সাটসার জেনারেল সেক্রেটারি ডঃ গোস্ট ন্যায়বানের কাছ থেকে।
পশ্চিমবঙ্গের কৃষির উন্নয়নে যাতে কোনরকম ত্রুটি না থাকে, সেই জন্যে ৫ টি রিজিওনে ভাগ করা হয় বাংলার কৃষিক্ষেত্রকে। কৃষিক্ষেত্রে চাষিভাইদের উৎসাহিত করতে এবং বিকল্প কৃষি পদ্ধতিতে আগ্রহ বাড়াতে সম্প্রতি প্রতিটি রিজিওনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সাটসা। বিভিন্ন অ্যাগ্রো প্রডিউসার, ফার্মার্স প্রডিউসার অর্গানাইজেশন থেকে শুরু করে প্রাইমারি কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। এবং তাদের মধ্যে যারা এই পাঁচটি রিজিওন থেকে বিজয়ী হয়েছেন তাদেরও পুরষ্কার প্রদান করা হয় এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে। কীভাবে তারা সাটসাকে পাশে পেয়েছিল, শুনে নেব তাদের মুখ থেকেই।
কীভাবে নাবার্ডকে পাশে পেয়েছেন তারা, শুনে নেব তাদের মুখ থেকেই।
সাটসার এই পরিকল্পনা যে শুধু কৃষিক্ষেত্রেই উন্নতি আনছে তাই নয়। পাশাপাশি গ্রামবাংলায় মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতেও সাহায্য করছে তারা।
এর পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন ও প্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সাটসার কাজকর্ম, রাজ্যের কৃষি সমস্যা এবং ভবিষ্যতে সাটসায় কর্মসংস্থান নিয়েও এদিন কথা বললেন সাটসার জেনারেল সেক্রেটারি ডঃ গোস্ট ন্যায়বান।
হাজার রকম চেষ্টা করেও বিশেষ কোন পরিকাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি কৃষিক্ষেত্রে। আর তাই সাটসার দাবি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সরকার যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। সংগঠনের সমস্ত দাবি দ্রুত পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী নিজেই। তবে কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সাটসার এই পরিকল্পনা যে সত্যি প্রশংসনীয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সুব্রত সরকার