Story
নামে ড্রাগন হলেও কাজ কিন্তু কল্পিত ড্রাগনের মত ভয়ঙ্কর নয়। একেবারে বিপরীত। বরং ভয়ের বদলে আজ বন্ধু হয়ে উঠেছে ড্রাগন চাষ। দিয়েছে চাষীদের লাভের মুখ।
ড্রাগনের গুণাগুণ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলবার নেই। এর গুণাগুণ এতটাই যে, মানুষ আজ বাজার কিংবা শপিং মল থেকে খুঁজে নিচ্ছে ড্রাগন ফলকে। যেমন চাহিদা। তেমন দামও বেশ চড়া। অথচ চাহিদার তুলনায় যোগান এখনো এ রাজ্যে যথেষ্ট কম। তাই ড্রাগন চাষী প্রচলিত চাষের পরিবর্তে এই চাষে পেয়ে থাকেন যথেষ্ট পরিমাণ লাভের গুড়।
ইনি সরস্বতী দাস। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ব্লকের সাঁইতা গ্রামের প্রথম সফল ড্রাগন চাষী। স্বামী প্রগতিশীল কৃষক হওয়ার সুবাদে প্রথম থেকেই রয়েছে চাষাবাদের প্রতি প্রাথমিক ধারণা। নিজের চার বিঘা জমিতে পেয়ারা, পেঁপের পাশাপাশি পঞ্চাশটা খুঁটি লাগিয়ে চাষ করছেন ড্রাগন ফলের। গ্রাম্য জীবনে এক সাধারন গৃহবধূর অসাধারণ কাহিনীর নামই সরস্বতী দাস।
সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সামাল দিয়ে শাশুড়ি আর মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়ির ক্ষেতেই কাটিয়ে দেন সরস্বতী অধিকাংশ সময়।
তাই ক্যামেরার সামনে যথেষ্ট আরষ্ট থাকলেও গড়গড়িয়ে বলেই ফেললেন তার এই ড্রাগন চাষী হয়ে ওঠার কাহিনী।
প্রথম পর্যায়ে পঞ্চাশটা খুঁটিতে প্রায় দুশোটা চারা গাছ লাগিয়ে স্থানীয় কৃষি দফতরের সহযোগিতায় ড্রাগন গাছগুলোকে ভালোভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে দেন সরস্বতী। এরপর নিজের মুখেই শোনালেন বছরভিত্তিক হিসেবে।
ফল পাওয়ার ইচ্ছায় আনন্দ আর যেন মনে ধরে না। স্বামী কলকাতায় কাজে ব্যস্ত থাকলেও ড্রাগনের হাতছানি ক্রমশ সরস্বতীকে টেনে আনে আরো ক্ষেতের কাছাকাছি। উন্নতমানের জৈব সারের সাহায্যে এবং সোলার ও ড্রিপ ইরিগেশন এর মাধ্যমে ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করে ফেলেন সরস্বতী।
আষাঢ় থেকে আশ্বিন ড্রাগন ফলের ভরা মরশুম। এই সময় নিজের হাতে গাছ পরিচর্যার পাশাপাশি ফল তুলে সেই ফল বাজারে পাঠাতেই ব্যস্ত থাকেন সরস্বতী। ফলের বাজার নিয়ে আর দাম নিয়ে কোন চিন্তাই নেই পূর্ব মেদিনীপুরের এই মহিলা চাষির।
ড্রাগন ফল চাষ এতটাই লাভজনক যে সরস্বতীকে ১০ মাসের সংসার চালানোর খরচের জন্য স্বামীর মুখাপেক্ষী থাকতে হয় না।
সারাদেশে যখন মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হচ্ছে ঠিক সেই জায়গায় অনায়াসে ঢুকে পড়তে পারেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই মহিলার ড্রাগন চাষী সরস্বতী দাস। জেলার বহু চাষী এখন প্রচলিত চাষের পরিবর্তে অর্থকরী ফসল হিসাবে বেছে নিয়েছেন ড্রাগন ফলের চাষকে। একই কথা শোনা গেল ব্লক কৃষি আধিকারিক সৌমেনের গলায়।
করোনা আবহে মানুষ যখন ইমিউনিটির স্বল্পতায় ভুগছেন ঠিক তখন হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে ড্রাগন ফলের জুড়ি মেলা ভার। তাই বাজারের চাহিদা বেশি।
ফলের চাহিদা বেশি। জোগান কম। তাই বাজারে বিক্রির হার বেশি। সেই কারণে প্রচলিত চাষকে বাদ দিয়ে স্বামীর হাত ধরেই ড্রাগন ফলের চাষে রীতিমতো সফল হয়ে জেলায় মহিলাদের আইকন হয়ে উঠেছেন সরস্বতী।
প্রসূণ মুখার্জী, পূর্ব মেদিনীপুর