Trending
আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে হয়েছে ভারতকে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় কোনভাবেই ভাটা পড়তে দেয় নি ভারত। আমেরিকা জানতে না পারে সেভাবেই যেন খুব গোপনে কয়লা এলো ভারতে। একেবারে রাশিয়া থেকে। টন টন কয়লা এসে পৌঁছল ভারতে একেবারে গোপন পথে। জানা যাচ্ছে, দুই ট্রেন ভর্তি কয়লা এসেছে রাশিয়া থেকে ভারতে। কিন্তু গোপন পথটা কী? ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর। এই করিডর ধরেই কয়লা এসেছে ভারতে। একে মাল্টি ট্রান্সপোর্ট করিডর বলা হয়। কেন মাল্টি ট্রান্সপোর্ট বলা হচ্ছে? কারণ এখানে শুধু রেলপথ নয়। সড়ক এবং জলপথে এখানে ব্যবসা করা যায়। আর সেই পথ ধরেই গোপনে আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাশিয়ার কয়লা এলো ভারতে।
প্রথমে রাশিয়া থেকে দুটি কয়লা ভর্তি ট্রেন এসে পৌঁছয় ইরানের চাহাবার বন্দরে। সেখান থেকে তারপর ভারতে জলপথে এসেছে কয়লা। আর এই পুরো পথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে মাত্র ২৫ দিন। এই চাহাবার বন্দরটি কোথায়? ইরানে। এই ইরানের চাহাবার বন্দরটি আগামী ১০ বছরের জন্য ভারত ব্যবহার করছে। চাহাবার সমুদ্র বন্দর ভারতের হাতে আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বন্দরের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া, এবং ইউরেশিয়ার মধ্যে ব্যবসার পথ আরও মসৃণ হবে। মসৃণ হবে কারণ যোগাযোগ আরও সহজ হবে, পরিবহনের খরচ কমবে আর সময় বাঁচবে। আর এই প্রত্যেকটা বিষয় সত্যি প্রমাণিত হল। যেখানে আগে আসতে সময় লাগত ৪৫ দিন। সেখানে এই কয়লা আসতে সময় লেগেছে মাত্র ২৫ দিন। বলা হচ্ছে ভারত চাবাহারের বন্দর হাতে পাবার কারণে আফগানিস্তান, ইরান হয়ে রাশিয়া পর্যন্ত ভারতের আধিপত্য বেড়েছে অনেকটাই। এমনকি তার জন্য পাকিস্তানের মুখাপেক্ষিও হতে হয় নি। চাহাবার বন্দর ভারতের জন্য ব্যবসার একটা বিকল্প পথ হিসেবে উঠে এসেছে। এবার এই চাহাবার বন্দরের জন্যই নাকি আমেরিকা রেগে যেতে পারে খুব। আর সেই ক্রোধ যাতে ভারতের বিদেশনীতি পর্যন্ত না আসে তার জন্যই কি এতো গোপনীয়তা? কারণ আমেরিকা নাকি ভারতকে চাহাবার বন্দর নিয়ে আগেই ভালোরকম সতর্ক করে রেখেছিল। মার্কিন মুলুক বলেছিল, চাহাবার বন্দর যদি ভারতের খুব ইন্টারেস্টের জায়গা হয় তাহলে তারা ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। কারণ চাহাবার বন্দর ব্যবহার করা মানে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ভালো নয়। তাই আমেরিকা চায় না তাদের বন্ধু দেশগুলো ইরানের সঙ্গে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করুক। কিন্তু ভারত এসবে পাত্তা দেয় নি। ইরানের সঙ্গে ভারত নিজের সম্পর্ক আরও ভালো করেছে। আর যে কারণে রাশিয়ার কয়লা এসে পৌঁছল ভারতে এই চাহাবার বন্দর দিয়েই।
তার মানে কী দাঁড়াল? আমেরিকার দুই শত্রু দেশ- রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে ভারত চুটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা অবশ্য এই নিয়ে আগেও ভারতকে নানা ভাবে বিরক্ত করেছে। তারা মনে করে রাশিয়া কোণঠাসা হবার পরেও এতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে কারণ ভারত এবং চিন- এই দুটো দেশই রাশিয়াকে আর্থিকভাবে অনেকটা সাহায্য করছে। ভারত যেভাবে রাশিয়ার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে সেটা কোনভাবেই হজম করতে পারছে না আমেরিকা। তবে একটা প্রশ্ন, ভারতের হঠাৎ কয়লার প্রয়োজন পড়ল কেন? ভারত কয়লা উৎপাদনে সেকেন্ড পজিশনে থাকলেও ভালো কয়লা পাওয়া যায় ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং রাশিয়াতে। এবারে ভারতে যেরকম গরম পড়েছে আর বিদ্যুতের চাহিদা যেভাবে বেড়েছে সেখানে কয়লার প্রয়োজন পড়তই। ভারত তাই রাশিয়ার থেকে কয়লা এভাবেই আনাল। কিন্তু শশশশ…আমেরিকা যেন না জানতে পারে, মানে খুব গোপনে। তবে গোপনীয়তা কতটা থাকল সেটা বলা যাবে না। অন্তত আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ