Market
টাকার দাম দিনের পর দিন কমে চলেছে ডলারের তুলনায়। সেই একইভাবে, ফের শুক্রবার বাজার খুলতেই বেশ বড়সড় ধাক্কা খায় টাকার মূল্য। এই দিন এক মার্কিন ডলারের দাম গিয়ে দাঁড়ায় ৮১টাকা ৯ পয়সায়। বেশ কয়েকদিন আশির ঘরে ঘোরাঘুরি করলেও, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবারে এক ধাক্কায় ২৫ পয়সা কমে গেলো টাকার মূল্য। অবশ্য শুক্রবার বাজার বন্ধের সময়, টাকার মূল্য প্রতি ডলারের তুলনায় আবার খানিকটা বেড়ে ৮০ টাকা ৮৬ পয়সায় গিয়ে দাঁড়ায়।
শুধু টাকার মূল্যেই নয়। এই দিন কার্যত ধ্বস নেমেছে শেয়ার বাজারেও। প্রায় হাজারের বেশি নেমে তলানিতে এসে দাঁড়ায় সেনসেক্স। দিন শেষে সেনসেক্স নেমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ হাজারের অঙ্কে। সেনসেক্সের এমন তলানিতে পৌঁছানোর কারণে লগ্নীকারীরা প্রায় ৪.৯০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার সম্পদ খোয়ায় এইদিন ।
আর্থিক বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দত্তের দাবি, পৃথিবীতে প্রায় সব মুদ্রার দামই কমেছে ডলারের তুলনায়। উপরন্ত নাকি, টাকার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। তার আশা, এখন RBI ডলার আরো বেশি পরিমাণে ছেড়ে দিয়ে টাকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। যার কারণে ৮২ এর গণ্ডিকে হয়তো টপকাতে পারবেনা ডলারের তুলনায় টাকার দাম। কিন্তু এসবের কারণে, আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায়, মূল্যবৃদ্ধি চড়া হারে বাড়ার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
শেয়ারবাজারে হঠাৎ করে এতটা বিপুল ধ্বসের কারণে, কার্যত আতঙ্কিত হয়ে ভারতীয় লগ্নিকারীরা শুক্রবার বিক্রি করে দেন বহু শেয়ার। তার উপরে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি, ভারতের শেয়ার থেকে টাকা তুলে উজাড় করে ঢেলে চলেছে আমেরিকার বন্ড ও ডলারে । এর মূল কারণ হলো, লগ্নির নিরাপদ মাধ্যম হলো এই ডলার।
ভারত জুড়ে প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের মরসুম। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা। পাল্লা দিয়ে ব্যাংকেও বেড়ে চলেছে ঋণের চাহিদা। এই সময় দাঁড়িয়ে যদি আরবিআই ডলার বেঁচে দেয় তাহলে কমবে নগদের পরিমাণ। আবার না বেঁচলে নীচে নামবে টাকার দাম। তবে টাকার দামে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ