Story
আজকে এই চ্যানেলে আপনাদেরকে এমন একটা প্রতিবেদন দেখাব, যে প্রতিবেদনটি দেখলে আপনারা নিশ্চিতভাবে বলতে বাধ্য হবেন একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান এতটা সামাজিক ভাবে দায়িত্বশীল? কেননা সরকারি প্রতিষ্ঠান বললেই আমাদের মনে প্রথমেই যে ধারণাটি আসে সেটি অত্যন্ত নেতিবাচক। কিন্তু আমি জয়শ্রী আপনাদেরকে নিশ্চিতভাবে বলছি। খুব দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আজকের এই প্রতিবেদনটি দেখার পর সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনাদের ধারণা একটু হলেও বদলাবে।
দেখুন এই মুহূর্তে আমরা স্ক্রিনে দেখাচ্ছি নদীয়া জেলার বড় জাগুলিয়াতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিরাট কর্মকাণ্ড।
এসবিআই আপনারা সবাই জানেন দেশের সবথেকে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক। কিন্তু ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং ব্যবসার পাশাপাশি নদীয়া জেলার বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভর করতে ২০০৯ সাল থেকে আজকে ২০২১ সাল প্রায় ১২ বছর ধরে নিখরচায় বিভিন্ন ধরণের পেশার উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে এই ইন্সটিটিউট।
২০০৯ সাল। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নদীয়া জেলার বড় জাগুলিয়াতে তাদের সিএসআর অ্যাক্টিভিটির অঙ্গ হিসাবে ভারত সরকারের সঙ্গে মৌ স্বাক্ষর করে এই নদীয়া জেলাতেই তৈরি করে গ্রামীণ স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যার পোশাকি নাম- SBI Rural Self Employment Training Institute বা SBI-RSETI। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে নদীয়া জেলার ছেলেমেয়েদের জন্য গোপালন, ছাগল পালন, মৌমাছি পালন, মাসরুম চাষ, মুরগি পালন, সব্জি চাষ, মাছ চাষ, চারাগাছ রোপণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ছেলেমেয়েদেরকে দশ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও এই ইন্সটিটিউটে মহিলাদের বিউটি পার্লার ছাড়াও তিরিশ দিনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় হাতেকলমে। ছেলেদের এসি মেশিন, ফ্রিজ, মোটরবাইক সারানো থেকে শুরু করে কম্পিউটার বেসিক, ডিটিপি অপারেটিং, ফটোগ্রাফি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তাহলে বন্ধুরা দেখলেন তো যে এসবিআই ব্যাঙ্ক নদীয়া জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে কতটা বদ্ধপরিকর। আর সবথেকে বড় কথা এই টোটাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় একদম বিনা পয়সায়। প্রয়োজনে ছাত্রছাত্রীদের ইন্সটিটিউটে এনে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়। এবার আপনাদেরকে শোনাব, এই ইন্সটিটিউটের যিনি অধিকর্তা সেই পাসঙ্গ শেরপার বক্তব্য। শুনুন।
এতো নয় গেল অধিকর্তার কথা।
শুনলেন তো নদীয়া জেলার একজন ছাত্রী এসেছেন এই ইন্সটিটিউটে। বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ নিতে। কী বললেন তিনি ইন্সটিটিউট সম্পর্কে প্রশিক্ষনের সম্বন্ধে। সত্যিই ভাবা যায়না আজকালকার দিনে নিখরচায় এই লেভেলের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসবিআই।
নদীয়া জেলার বড় জাগুলিয়ার এই গ্রামীণ স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাই নয়। একেবারে হাতেকলমে ব্যবসার অ-আ-ক-খ। ট্যাক্সেশন থেকে জিএসটি। সবকিছুই আসে এই প্রশিক্ষনের আওতায়। ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন নির্দিষ্ট পোশাক পর্যন্ত দেয় এসবিআই। শুনুন ফ্যাকাল্টি টিঙ্কু কর্মকারের কথা।
এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েক হাজার বেকার যুবক আজ স্বনির্ভর হয়েছেন। ইন্সটিটিউটের দাবি, এখান থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া ৭০ শতাংশ ছেলেমেয়েই আজ যুক্ত রয়েছেন কোন না কোন কাজে। সবথেকে বড় কথা প্রশিক্ষণ শেষে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা ব্যবসা করতে চাইলে এসবিআই তাদের লোন প্রপোজালগুলি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পুঁজির ব্যবস্থা করে। প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রীদের হাতে সরকারি শংসাপত্র। যে শংসাপত্রের ভিত্তিতে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের লোন দিতে রাজি হয় অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলো। এখানেই সফলতা এই ইন্সটিটিউটের। সবথেকে বড় কথা, সফলতার আত্মবিশ্বাসটাও ধরা পড়ল এখানকার আরেক ফ্যাকাল্টি স্নেহাশিস পান্ডার গলাতে। শুনুন স্নেহাশিস পান্ডা কী বলছেন।
ছাত্রছাত্রীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন তথাকথিত নামীদামী ইন্সটিটিউটগুলোর বিজ্ঞাপনে চোখ পড়ে, ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজ্ঞাপনি প্রচারের আলো থেকে শতহস্তে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রেখে নিঃশব্দে বিপ্লব করছে নদীয়ার বড় জাগুলিয়ায় এসবিআইয়ের গ্রামীণ স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। তাই তাদেরকে হ্যাটস অফ ছাড়া আর কিছুই বলার নেই আমাদের পক্ষ থেকে। আর আজকের এই ভিডিওটি স্পেশ্যালি নদীয়া জেলার বেকার যুবকযুবতীদের জন্য আমরা ডেডিকেট করলাম। তাই বলছি আরো একবার। ভিডিওটি দেখুন। লাইক করুন। শেয়ার করুন। আপনি নিজে জানুন। অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে।
সুব্রত সরকার
নদীয়া