Daily
বি পি এন ডেস্ক : বারবার আক্রান্ত হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস। তা সে আমাজন হোক বা বেলিয়াতোড়। কখনও প্রকৃতির খেয়ালে, কখনও মানুষের খেয়ালে। তার জেরেই বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। গোটা বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে আন্দোলন চললেও, শুনছে ক’জন?
সম্প্রতি আগুনের কবলে পড়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাঁকুড়ার জঙ্গল। গত ২৫ তারিখ তিনটি জঙ্গলে পরপর আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তখন জঙ্গলের গুরুত্ব বুঝে স্থানীয়রাই ঝাঁপিয়ে পড়েন আগুন নেভানোর কাজে। মূলত শুকনো পাতায় কেউ বা কারা আগুন লাগিয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছিল। আগুনে পুড়ে ক্ষতি হয় শাল, সেগুনের মত বড় বড় গাছের।
পরিবেশপ্রেমীদের থেকে মাইকে করে প্রচার করা হয় জঙ্গলের ভূমিকা নিয়ে।
তার দু’এক দিনের মাথায় ফের আগুন লাগে বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় পঞ্চায়েতের বাহাদুরপুর গ্রামের জঙ্গলে। সেবারেও দমকলের একটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তারপর আগুনের উত্তাপ মিটতে না মিটতেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর এলাকার জামবেদিয়া জঙ্গল। সেখানেও সকালবেলা স্থানীয়দের নজরে আসে জঙ্গলে আগুন। দমকল বিভাগ দেরিতে এসে পৌঁছানর জন্য জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জঙ্গলের জীবজন্তু সহ সাপ প্রাণভয়ে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসে রাস্তায়।
কখনও ইচ্ছাকৃত আর কখনও বা অসাবধানতা। বারবার আগুন লাগার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জীবনের সঙ্গে জীবিকাও। কিন্তু এই ঘটনার মূল অপরাধী কারা? অনুসন্ধান শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত ধরা পড়ে নি কেউই। এদিকে আগুন লাগার কারণে প্রশ্নের মুখে পড়ছে বহু দরিদ্র মানুষের জীবিকা। কারণ যাদের সংসার চলে জঙ্গলের শুকনো পাতা কুড়িয়ে। ক্রমাগত অগ্নিসংযোগের ফলে প্রকৃতির সাথে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে এই সকল মানুষের ভবিষ্যৎ।