Story

ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে মকর সংক্রান্তি। আর মকর সংক্রান্তি মানেই আমবাঙালির হেঁশেলে পিঠেপুলির উৎসব নেমে আসে। ঘরে ঘরে মা-বোনেরা নেমে পড়েন পিঠেপুলি তৈরিতে। জিভে জল আনা হরেক রকমের পিঠেপুলি পৌষ পার্বণের মেজাজকে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতায়। আর পিঠেপুলি তৈরির জন্য বিভিন্ন সামগ্রীর প্রয়োজন তো রয়েছেই। তাই পৌষ পার্বণ উৎসবের আগে ব্যস্ততা চরমে ওঠে কুমোরপাড়ায়।
উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের মুস্তাফা নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পাল পাড়া। সামনেই পৌষ সংক্রান্তি। তাই নাওয়া খাওয়া শিকেয় উঠেছে এখানকার মৃৎশিল্পীদের। বাড়ির সকল সদস্যরাই একেবারে মাঠে নেমে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরণের পিঠেপুলি সামগ্রী। মাটি দিয়ে এই সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধাঁচে। বিভিন্ন আকারের। বিভিন্ন সাইজের। তাঁদের এই মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করাই জাত ব্যবসা। নিপুণ হাতে তৈরি এই সকল সামগ্রী বাজারজাত করার সেরা সময় যে এখনি। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন ব্যস্ততা পৌঁছেছে চরমে। সেই ছবিটাই ধরা পড়ল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
প্রায় ৪০ জন সরাসরি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বছরের অন্যান্য সময় মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হলেও পৌষ পার্বণের আগে এখন সরা তৈরিতেই মজে থাকেন তাঁরা। বাড়ির তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবাই একযোগে এই সরা তৈরি করেন। যা স্থানীয় হাটেবাজারে বিক্রি করা হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে।
এই সময় এদের বিক্রিবাটা একেবারে তুঙ্গে ওঠে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকাররা এসেও তাঁদের থেকে কিনে নিয়ে যান। কিন্তু করোনার দাপাদাপি ফের বাড়তে শুরু করায় অনিশ্চয়তার মেঘ জমা হচ্ছে এই কুমোরপাড়ায়। করোনার আবহে এই বিক্রি আবার ধাক্কা খাবে নাতো? এখন সেই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে তাঁদের কাছে।
তবে মুখ ফিরিয়ে নেই রাজ্য সরকার। জেলার কালিয়াগঞ্জ এবং রায়গঞ্জ ব্লকের মৃৎশিল্পীদের জন্য একগুচ্ছের প্রকল্প গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। যার মাধ্যমে তাঁদের আর্থিকভাবে উন্নয়ন সম্ভব। এই বিষয়ে বিজনেস প্রাইম নিউজকে সরাসরি জানালেন জেলা ক্ষুদ্র শিল্প আধিকারিক সুনীল সরকার।
করোনার গরম আর উৎসবের নরম মেজাজ স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় রেখেছে পালপাড়ার এই মৃৎশিল্পীদের। এমনিতেই বিক্রিবাটা আগের চেয়ে এবছর একটু কম। সেখানে দাঁড়িয়ে কতটা লাভের মুখ তাঁরা দেখতে পারবেন, তা নিঃসন্দেহে মৃৎশিল্পীদের মনে তৈরি করেছে আতঙ্ক। যদিও ভাটা পড়েনি উদ্যমে। একটু বেশি মুনাফা লাভের আসায় পিঠা তৈরির সামগ্রী বানিয়ে চলেছেন তাঁরা।
অনুপ জয়সোয়াল
উত্তর দিনাজপুর