Story
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরাসরি আঘাত হানলেন ইউক্রেনে। সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই হুমকিও দিলেন যে বাইরের শক্তি রাশিয়াকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল খুব একটা ভালো হবে না।
২৮ লক্ষ বাসিন্দার শহর কিভ কেঁপে উঠল রুশ বাহিনীর হানায়। পশ্চিমের দেশগুলো তো বটেই। এমনকি আমেরিকাও রাশিয়ার এই একগুঁয়ে মনোভাবকে রীতিমত ধিক্কার জানাল। রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমি দেশগুলোর যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ছিল সেগুলোকে বন্ধ করে দিতে পশ্চিমি দেশগুলো একজোট হল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা বললেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে। কিন্তু অতিমারি পরবর্তী বিশ্ববাজারে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করল কেন? তার জন্য যেতে হবে ১৯৯১ সালে।
ইউক্রেন আগে ছিল অবিভক্ত রাশিয়ার অংশ। যদিও ১৯৯১ সালে ইউক্রেন রাশিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু ইউক্রেনের অধিকাংশ মানুষ এখনও রুশ ভাষাতেই কথা বলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় ২০১৪ সালে। ইউক্রেন অর্থনৈতিক ভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমি দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। আর তাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। এছাড়াও আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে, ন্যাটোর বাড়াবাড়ি। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছিল বহুদিন ধরেই। পুতিন কোনভাবেই চাইছিলেন না ইউক্রেন ন্যাটোর সঙ্গে সমঝোতা করুক। পৃথিবীর ৩০টি দেশ এই ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত। ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় তাহলে ইউক্রেন সামরিক দিক থেকে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যা ব্যাপক মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে রাশিয়ার। আর তাই ইউক্রেনকে আটকাতে আর দ্বিতীয়বার ভাবলেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এবার তার জেরেই আবারো অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করছে ভারত। তাই ভারত কারুর পক্ষ না নিয়ে মাঝামাঝি থেকে রাশিয়াকে শান্ত করার বার্তা পৌঁছে দিল।
ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে দেখা দিয়েছে টালমাটাল অবস্থা। এক ধাক্কায় শেয়ার বাজারের সূচক ২৭০২ পয়েন্ট নেমে গেল। লগ্নিকারিরা হারালেন ১৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ অপরিশোধিত তেলের জোগান দিয়ে থাকে রাশিয়া। এমনকি প্রাকৃতিক গ্যাসের ১০% আসে এখান থেকেই। কিন্তু যুদ্ধের দামামা বেজে যাওয়ায় তেল এবং গ্যাসের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূল্যবৃদ্ধি এতটাই বাড়তে পারে যে মধ্যবিত্তের অবস্থা হতে পারে শোচনীয়।
একইসঙ্গে ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে যে আমদানি রফতানির বাণিজ্য চলে সেখানেও ব্যাপক ধস নামতে পারে। ভারত রাশিয়াকে রফতানি করে ওষুধ, চিকিৎসার বিভিন্ন সামগ্রী, গাড়ি, ইলেকট্রিকাল পার্টস, জৈব রাসায়নিক। অন্যদিকে আমদানি করে খনিজ তেল, জ্বালানি, সার, মুক্তো, নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর। মনে করা হচ্ছে, এই যুদ্ধের ফলে ভারত-রাশিয়ার ব্যবসা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে সংকটে ভুগছে দেশের চা শিল্প। আমেরিকা, ইংল্যান্ড সহ রাশিয়াতেও ভারতের চা ব্যাপক পরিমানে রফতানি করা হয়। কিন্তু আমেরিকা যদি বেঁকে বসে তাহলে রাশিয়াকে চা রফতানিতে কিছুটা পিছিয়ে আসতে হতে পারে ভারতকে। যা ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় ক্ষত তৈরি করতে পারে। ডলারের থেকে রুবেলের দাম অনেকটাই পড়ে যাওয়ায় রফতানিতেও ধাক্কা ক্ষেতে পারে ভারত। এদিকে যুদ্ধের আবহাওয়ার কারণে সোনার দাম বাড়ছে ভালোরকম। তার অন্যতম কারণ, লগ্নিকারিরা শেয়ার বাজারে লগ্নি করতে তেমন একটা ভরসা করছেন না। ফলে সোনাকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছেন। এই সুযোগে বেড়ে গিয়েছে সোনার দাম। ফলে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি এখন যথেষ্ট চিন্তায়।
ইউক্রেনে এই মুহূর্তে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় রয়েছেন। এখন মোদী সরকার কোনরকম বাকবিতণ্ডায় না গিয়ে মিশন ইউক্রেনে নেমেছে। ঘরের ছেলেদের ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য। কোনরকম কূটনৈতিকগত অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে না ভারত। তার জন্য ভারত হয়ত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছুটা কোনঠাসাও হয়ে যেতে পারে। তার একমাত্র কারণ ভারত এখন মাঝামাঝি অবস্থায়। একদিকে পশ্চিমি দেশগুলোর একজোট হওয়া। অন্যদিকে রাশিয়া। ভারত অতিমারির ধাক্কা সামলে নিজের বাণিজ্য সম্প্রসারণের কাজ খুব ভালোভাবেই করছিল। মাঝখান থেকে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের ভারতকে ফেলে দিল প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে। তবে সাধারণ মানুষের মত বিজনেস প্রাইম নিউজও চাইছে বন্ধ হোক এই যুদ্ধ। ফিরে আসুক শান্তি। ব্যবসা বাণিজ্যের চাকাটা সুস্থভাবে ঘুরতে শুরু করুক। একসঙ্গে থাকলে তবেই তো জীবন অর্থবহ হয়ে উঠবে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ