Story

এই যন্ত্র একাই দশের কাজ করবে। এই যন্ত্র মিটিয়ে দেবে শ্রমিক সমস্যা। আবার এই যন্ত্রই আর্থিকভাবে লাভবান করবে কৃষকদের। তাই যে সকল প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র চাষিরা ধানের চাষ করছেন, তাঁরা নিজেরা এই যন্ত্র ব্যবহার করলে অনেক সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।
খারিফ ধান লাল মাটির জেলা পুরুলিয়ার অন্যতম প্রধান ফসল। বছরে একবারই মাত্র আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে গোটা জেলায়। যেখানে শ্রমিক সমস্যা তো রয়েছেই। সঙ্গে রয়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। লম্বা সময় ধরে ধান কাটার জন্য যা কৃষকদের ফেলে দিচ্ছে সমূহ আর্থিক ক্ষতির মুখে। আর কৃষকবন্ধুরা যাতে পরিশ্রমের ফলন হাতে পেয়ে হাসি চওড়া করতে পারেন, তাই কৃষকদের ভরসা যোগাচ্ছে এই যন্ত্র। যার পোশাকি নাম বুশ কাটার। মূলত জেলার অধিকাংশ ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের কথা মাথায় রেখেই কৃষি দফতরের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ছোট, সহজে বহনযোগ্য ও দামে কম ও যথেষ্ট কার্যকরী এমন ধরণের কৃষিযন্ত্রের ডেমনস্ট্রেশন।
পুরুলিয়া ২নং ব্লকের জামবাদ ও হারামজঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামের প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র চাষিরা অনেক কম সময়ের মাধ্যমে জমির ধান কাটতে পারবেন। শ্রমিক খরচ কমিয়ে ধানের উৎপাদন খরচেও টানা যাবে যথেষ্ট লাগাম। প্রথাগত পদ্ধতিতে ৫-৬জন শ্রমিক সারাদিনে ১বিঘা জমির ধান কাটতে পারেন। শ্রমিক খরচ লাগে ১২০০ টাকা। পরিবর্তে, এই যন্ত্রের সাহায্যে, মাত্র ১জন শ্রমিক সারাদিন দেড় – দুই বিঘা জমির ধান কেটে ফেলতে পারেন সহজেই। খরচ নামমাত্র। যন্ত্রটি চালানোর জন্য তেল সহ খরচ মাত্র ৪০০ টাকা। তবে এই যন্ত্রটির দাম যেহেতু ১৫-২০ হাজার টাকা। তাই অনেক স্বনির্ভর গোষ্ঠীও এই যন্ত্র কিনে তা চাষের কাজে লাগাতে পারবেন। এমনকি কৃষকরাও কম দামে ভর্তুকি পেয়ে এই যন্ত্র কিনতে পারবেন।
মূলত পুরুলিয়ায় চার ধরণের ধান জমি দেখা যায়। এক উঁচুজাতের টাঁড় জমি, দুই মাঝারি উঁচু জাতের বাইদ জমি। মাঝারি নিচু জাতের কানালি এবং নিচুজাতের বহাল জমি। সাধারণত উঁচু জাতের জমিতে স্বল্পমেয়াদী এবং নিচু জাতের জমিতে দীর্ঘমেয়াদী জাতের ধানের চাষ করা হয়ে থাকে। তাই চাষের জমিতে যাতে সমস্যা তৈরি না হয়, সে কারণেই কৃষকদের এই যন্ত্র ব্যবহারের ডেমো দেওয়া হচ্ছে। যা কৃষকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি করেছে।
বৃষ্টিতে অনেক সময় ধান কাটা যায়না। আর কাটা গেলেও সেই ধান সময়ের অভাবে নষ্টও হয়ে যায়। কিন্তু কৃষি দফতরের পরামর্শ মেনে যদি এই যন্ত্রের ব্যবহার করে ধান কাটা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে চাষিদের হাতে লাভের অঙ্ক অনেকটাই থেকে যাবে। তাই কৃষি বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে ধান চাষ যখন অলাভজনক মনে হচ্ছে তখন এই ধরণের যন্ত্রের ব্যবহার আগামীদিনে কৃষকদের কাছে কল্পতরু হয়ে উঠতে পারে।
সন্দীপ সরকার
পুরুলিয়া