Story
ঘরে ঘরে মুরগি পালন গ্রাম বাংলার খুব পরিচিত একটি ছবি। সেই মুরগির ডিম বিক্রি করে গ্রামের মানুষ আলাদা করে আয়ের একটা পথ খুঁজে পান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুরগি পালন করে এবং ডিম বিক্রি করে লাভের মুখ খুব একটা দেখতে পাওয়া যায়না। তবে এই দৃশ্যটি একেবারেই বেমানান যদি পৌঁছে যাওয়া যায় পুরুলিয়ার সিঁদুরপুর গ্রামে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে মুরগি প্রতিপালন করে এখন যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন এই গ্রামের আদিবাসী মহিলারা।
ব্লক এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং MGNREGA ও প্রাণীসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে একটি বড় পোল্ট্রি শেড তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর এবং কৃষি বিভাগের আত্মা প্রকল্পের মাধ্যমে আদিবাসী মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য দেওয়া হয়েছে ১ হাজার রোড আইল্যান্ড রেড এবং সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেয়ে আদিবাসী মহিলারা প্রতিপালন করছেন এই বিদেশি মুরগি। গ্রামের এই প্রান্তিক পরিবারগুলি খুঁজে পেয়েছেন বিকল্প আয়ের পথ।
সাধারণত যে ধরণের দেশি মুরগি ঘরে প্রতিপালন করা হয় তা এলাকার ডিম এবং মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে একটা অপূর্ণতা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে রোড আইল্যান্ড রেডের মত মুরগি ঠিকঠাকভাবে প্রতিপালন করলে এরা বছরে ২৫০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। একইসঙ্গে মাংসের চাহিদাও পূরণ করতে পারে। পাশাপাশি আয়ের পথও অনেকটা মসৃণ হয় প্রান্তিক মানুষগুলোর জন্য।
আদিবাসী মহিলাদের পাশাপাশি প্রাণীমিত্রদের মুরগির যথাযথ প্রতিপালনের দিকে নজর রাখতে হয়। অ্যাজোলার চাষ করে যেমন খাওয়ানো হয় মুরগিকে তেমনই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানোর জন্য নিয়মিত করা হয় টিকাকরণ। কিরকম, জানালেন প্রাণীমিত্র শীতলা রায়।
বর্তমানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এভাবে প্রতিপালন করে তারা যথেষ্ট আয় করছেন। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন তারা নিজেরাই জেনে ফেলেছেন মুরগি প্রতিপালনের সকল প্যাঁচপয়জার।
শুধু বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রশিক্ষণ নয়। ব্লক প্রাণী সম্পদ বিকাশের পক্ষ থেকে এই সকল প্রান্তিক মহিলাদের আয়ের পথ আরো মসৃণ করতে দেওয়া হয়েছে একটি ইনকিউবেটর মেশিন। যাতে আরো তাড়াতাড়ি ডিম ফুটিয়ে এবং বাচ্চা উৎপাদন করে আদিবাসী মহিলা স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। ইতিমধ্যেই তারা ডিম এবং অতিরিক্ত মোরগগুলি বিক্রি করে প্রায় দু লক্ষ টাকার উপর আয় করেছেন। বর্তমানে স্বনির্ভর দলের ৪০ জন সদস্য যুক্ত আছেন এই কাজের সঙ্গে। ভবিষ্যতে তারা এভাবে এগিয়ে যাবেন সাফল্যের এই রাস্তা ধরে। অন্তত এমনটাই মনে করছেন আদিবাসী মহিলাসহ প্রাণী বিকাশ দপ্তরের সমস্ত আধিকারিকরা।
সন্দীপ সরকার
পুরুলিয়া