Daily
ফাল্গুন মাস। দুয়ারে বসন্ত। এমন দিনে বাহারি গোলাপের গন্ধে মাতয়ারা হয়ে ওঠার কথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া কোলাঘাট ও শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিস্তীর্ণ গোলাপ গ্রামের। ক্রেতা –দর্শনার্থীদের ভিড়ে রীতিমত খাওয়া-ঘুম মাথায় ওঠার কথা চাষি-ব্যবসায়ীদের। কিন্তু পাশকুঁড়া আর শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের চাষিদের মুখ ভার, চোখে জল। বিস্তীর্ণ এলাকার বাগান জুড়ে গোলাপ গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু নেই তাতে ফুল। যে গোলাপ বাগান ছিল কৃষকের আগামী বছরের সংসার চালানর হাতিয়ার, সে বাগান বিবর্ণ। সেদিকে চাষিরা তাকাতে পর্যন্ত পারছেন না।
পূর্ব মেদিনীপুরের গোলাপ গ্রামে ফের অজানা ছত্রাকের হানা। হঠাৎই গাছের পাতা কিংবা কাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সাদা দাগ। ঝরে পড়ছে গোলাপের কুঁড়ি, ঝরে যাচ্ছে গাছ। ভরা মরশুমে প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরতায় দিশেহারা কয়েক হাজার গোলাপ চাষি। তারা মনে করছেন, যেভাবে ফুলগাছে রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো চাষই নষ্ট হয়ে যাবে।
গোলাপের মরশুমে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, এবং অনান্য কাজে নিযুক্তদের মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে এই গোলাপ গ্রাম। গোলাপের সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে থাকা গোলাপগ্রামগুলো দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় এক স্থান হিসেবে পরিচিত পেয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। কিন্তু এবার না আছে আগের মতো গোলাপের সুগন্ধ, না আছে চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য। ফুলের হাসিমাখা গ্রামটিতে এখন হাসি নেই। বাগানের পর বাগানের ফুল ঝরে গেছে। তবে, গোলাপের এই রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার সুসংহত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা জানালেন বিশিষ্ট কৃষিবিদ ডঃ মৃণালকান্তি বেরা।
করোনার আঘাত কাটতে না কাটতেই গোলাপ গাছে এই অজানা ছত্রাকের হানা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট করেছে চাষিদের মধ্যে। যদিও গোলাপ গ্রাম ঘুরে ইতিমধ্যেই একটা সুরাহা করার জন্য তৎপর হয়েছেন জেলার কৃষি আধিকারিকরা। এখন কত তাড়াতাড়ি চাষিভাইরা এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পান, সেটাই দেখার।
প্রসূন ব্যানার্জি
পূর্ব মেদিনীপুর