Story
আর তো মাত্র কটা দিন বাকী। কিন্তু এইভাবে চললে পুজোর আগে প্যান্ডেলে ঠাকুর পৌছবো কী করে? মৃৎশিল্পীদের কাছে এ যেন এক বিভীষিকা। রাতের ঘুম কেড়েছে আবহাওয়া। কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি। বিশ্রি পরিস্থিতি। ভেজা জামাকাপড়ই শুকোচ্ছে না। আর সেখানে মাটির মূর্তি! লাগাতার বৃষ্টি- থমকে আছে প্রতিমা গড়ার কাজ। মাত্র কয়েক মাস আগেই যে বৃষ্টির জন্য মানুষ হাপিত্যেশ করছিল, আজ সেই বৃষ্টির কারণেই চিন্তা বাড়ছে মৃৎশিল্পীদের।
যত দিন এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সময়ের মধ্যে ডেলিভারি না দিলে মুশকিল। এদিকে এই ওয়েদারে প্রতিমা শুকনো করা সবচেয়ে কষ্টকর। ভাল করে প্রতিমা না শুকনো হলে ভালভাবে রং করা যাবে না। প্রতিমাকে সাজিয়ে তোলা যাবে না। কাজ কমপ্লিট না হলে ডেলিভারি দেবেন কীভাবে? কে শুনবে মৃৎশিল্পীদের কথা? অর্ডার যখন নিয়েছেন, তখন যেন তেন প্রকারেণ তা শেষ করতে হবে। তাই গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে চলছে মাটির মূর্তি শুকনো করার কাজ।
বাইটঃ উজ্জ্বল পাল, মৃৎশিল্পী (০.০৮-০.৩১)/(০.৪২-০.৫৬)
মূল্যবৃদ্ধির বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মাটি শুকনোর ক্ষমতা কতজন মৃৎশিল্পীদের আছে? তাই বিকল্প তরিজুতিতেও অভাব নেই। কিন্তু যতটা কষ্ট তারা করেন, তার সঠিক মূল্যায়ন হয় কি? মৃৎশিল্পীরা সঠিক দাম পান কী? যাই হোক, আপাতত মৃৎশিল্পীদের একটাই প্রার্থনা, আর্থিক পরিস্থিতি তো তাদের সহায় নয়, অন্তত আবহাওয়াটুকু সহায় থাকুক।
অনুপ জয়সয়াল
উত্তর দিনাজপুর