Trending
ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কেমন সেটা সকলেই জানেন। পুতিন নিজে বহুবার ভারতের স্ট্যান্ড অ্যালোন স্ট্যান্ডপয়েন্টের সমর্থন জানিয়েছেন। মোদীর মত প্রধানমন্ত্রী না হলে ভারত রাশিয়ার সম্পর্ক যে কোনভাবেই এতদূর এভাবে এগোত না সেই কথাও বলেছেন। এই নিয়ে ভারতীয়রাও বেশ প্রচ্ছন্ন এক গর্ব অনুভব করেছেন বৈকি। কিন্তু সম্প্রতি এমন একটা তথ্য এসেছে যা একদিক থেকে হতবাক করেছে পশ্চিমা দেশগুলোকে আবার অন্যদিকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে মোদী সরকারকে। আর সেখান থেকেই একটা কথা খুব কানে আসছে। অনেকেই বলছেন, পুতিন যেভাবে দেশ সামলাচ্ছেন সেটা দেখে মোদীর অন্তত শেখা উচিৎ। এখন কোন বিষয়টা পুতিন সহজে হ্যান্ডেল করতে পারলেও মোদীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে? চলুন এবার সেই কথাই আপনাদের বলব।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া অফিশিয়ালি যুদ্ধ ঘোষণা করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। তারপর থেকে টানা দুই বছর যুদ্ধ চলছে একটানা। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ পশ্চিমা দেশ এবং অবশ্যই আমেরিকা ভালো চোখে নেয় নি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইউক্রেনকে সাহায্য করার নাম করে পশ্চিমা দেশগুলো আসলে ইউক্রেনের মাটির গন্ধ মুছে দিত। রাশিয়ার শক্তিকে খর্ব করার প্ল্যান ছিল তাদের। পুতিন হয়ত সেটা বুঝতে পেরেছিলেন বলেই যুদ্ধ চালানোর মত একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আমেরিকা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ না চালালেও, অর্থনীতি পঙ্গু করার চেষ্টা তারা করেছে। কিভাবে? রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসে। সেটা অবশ্যই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা। আমেরিকা একইসঙ্গে চেয়েছিল যাতে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধ সুরে প্রতিবাদ করে। কিন্তু দেখা গেল ভারত এমনই এক ব্যতিক্রমী কাণ্ড করে বসল যে, আমেরিকার পক্ষে সেটা না ঘরকা, না ঘাটকা হয়ে থেকে গেল। কিরকম? ভারত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোন কথা তো বললই না, বরং এযাবৎ রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য রেকর্ড করল। ভারত ছাড়া এই কাজটি আরেকটি দেশ করেছিল- চিন। সেও ভারতের মতনই কোন পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে পিছ পা হল না। এরপরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন বলেই দিলেন যে ইউক্রেন মনে করলে যতদিন ইচ্ছে ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে এবং রাশিয়ার কোন আপত্তি নেই, তখন ইউরোপ, আমেরিকা রে রে করে উঠল ভারত আর চিনের দিকে তাকিয়ে। বলল, এই দুটো দেশ এতো ব্যবসা বাণিজ্য করছে বলেই রাশিয়ার এতো বাড়বাড়ন্ত। না হলে রাশিয়ার বর্তমানে পৃথিবীর পশ্চিম দিকে যে দেশগুলো রয়েছে, সেখানে এতো ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তারপর তো রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু সেটা না হয়ে এটা কী হল?
এটা- মানে আয়। রাশিয়া আয়ের নিরিখে উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। পুতিনের বাজিমাৎ। কিন্তু আমেরিকা হতবাক, ইউরোপ অবাক। কিভাবে যুদ্ধ চালিয়ে উচ্চ আয়ের দেশ হতে পারে রাশিয়া? সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের তরফ থেকে একটা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়া। কিন্তু যুদ্ধের আগে তারা ছিল উচ্চ মধ্যবিত্ত আয়ের দেশ হিসেবে। আর এটা দেখেই নাকি অনেকের বোঁ করে মাথা ঘুরে গেছে। কিভাবে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে নিজের অর্থনীতিকে ম্যানেজ করতে পারল? আর কিভাবে এক ধাপ এগিয়ে এলো রাশিয়া?
আপনাদের জানিয়ে রাখি, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক মোটামুটি চারটে ক্যাটেগরিতে বিশ্বের দেশগুলোকে ভাগ করা হয়। ১। উচ্চ আয়ের দেশ, ২। উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ, ৩। নিম্ন মধ্যে আয়ের দেশ এবং ৪। নিম্ন আয়ের দেশ। যে দেশের এক আমআদমি বছরে ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা বা তার কম রোজগার করেন, সেই দেশ রয়েছে নিম্ন আয়ের তালিকায়। যে দেশের একজন নাগরিক বছরে ৯৫ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করেন তখন সেই দেশ হয় নিম্ন মধ্যা আয়ের দেশ। আর যে দেশের এক আমআদমির আয় বছরে পৌঁছে যায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা থেকে ১১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত, সেই দেশকে বলা হয় উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ আর যে দেশের সাধারণ নাগরিকের আয় ১২ লক্ষ বা তার বেশি, সেই দেশ এক উচ্চ আয়ের দেশ।
বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় বদল এলেও ভারত কিন্তু খুব যে একটা এগোতে পারছে তেমন নয়। কারণ বর্তমানে ভারত রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির র্যাঙ্কিং-এর তালিকায় ৫ নম্বরে। মোদী মনে করছেন এই তালিকার তিন নম্বরে উঠে আসা উচিৎ। কিন্তু সেটা বলতে গেলে যে আরেকটা কথা বলতে হয়। ভারত বিশ্ব অর্থনীতির বড় জায়গায় চলে এলেও এখনো ভারত নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবেই থেকে গেছে। কারণ অনেকেই বলছেন সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লে ভারত কোনদিনই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। দেখুন একটা সময় চিন ছিল নিম্ন আয়ের দেশ। কিন্তু তারা নিজেদের উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু ভারত পারে নি। আর এবার রাশিয়ার র্যাঙ্ক বাড়তে অনেকেই প্রকাশ্যে পুতিনের প্রশংসা করছেন। এবং মনে করছেন, মোদীর উচিৎ পুতিনের থেকে কিছু শেখা। কিন্তু কী শিখবেন তিনি? যেখানে রাশিয়া সবার সামনে বারবার মোদী সরকারের প্রশংসা করেছেন। তারপরেও মোদীর কোথাও গলদ আছে বলে মনে করছেন রাজনীতিনিদদের একাংশ।
বলা হচ্ছে এই যুদ্ধের আবহেও পুতিন খুব বুদ্ধি করে রাশিয়ার অর্থনীতিকে জোরদার করছেন, সামলাচ্ছেন। রাশিয়ার গ্রামাঞ্চল এলাকাগুলোয় বেকারত্ব চওড়া থাবা বসিয়েছিল। আয়ের রাস্তা একেবারেই মসৃণ ছিল না। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর রাশিয়ার ভাগ্য যেন বদলে গিয়েছে। পুতিন সরকার জনে জনে চিহ্নিত করেছে কারা বেকার বা কাদের একেবারে কম। তাদেরকে সেনাবাহিনীতে নিয়েছে পুতিন সরকার। পুতিন সরকার সেনাবাহিনীতে মোটা টাকা খরচ করে। জানা যাচ্ছে, তারপরই নাকি প্রত্যেক মানুষের হাতে আয় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ফলে সেই প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তালিকায়। কিন্তু তার মানে কি এখন মোদী সরকারকে বেকার বা কম আয়ের মানুষদের চিহ্নিত করতে হবে? না, সেটা নয়। পুতিন ঠিক করেছেন অন্য একটা জিনিস। যদিও এখনো সেটা ইমপ্লিমেন্ট হয় নি। মানুষের আয় ক্ষমতা বেড়েছে মানে এবার সেই টাকা তো কর দেবার মাধ্যমেই তুলতে হবে পুতিনকে। এতদিন পর্যন্ত রাশিয়ার পরিচয় ছিল কর আদায় কম করে দেশ হিসেবে। এবার পুতিন হয়ত করের অঙ্ক অনেকটাই বাড়িয়ে দেবেন। তবে সবার থেকে নয়। জানা যাচ্ছে, পুতিনের প্ল্যান হল মধ্যবিত্তদের থেকে বেশি কর আদায় করা হবে না। বরং যারা মোটা টাকা আয় করেন বা রাশিয়ায় যারা উচ্চবিত্তের নাগরিক, তাদের থেকে মোটা কর আদায় করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবেই দেশ চালাতে জানতে হয়। শত বাধার পরেও পুতিন কিভাবে নিজের দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করল। মোদীর নাকি এটাই শেখা উচিৎ। আপনারা কি মনে করেন জানান আমাদের।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ