Story
বি পি এন ডেস্ক: বছর বছর বেড়েই চলেছে চাষের খরচ। অথচ লাভ যৎসামান্য। শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা ধান চাষিদের। অনেক কৃষক যখন প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন আর মাঠে ধান বুনবেন না, তখনই অভিনব পদ্ধতি বার করে কৃষকদের আবারও মাঠমুখি করতে উদ্যোগী হল কৃষি দপ্তর। রীতিমত হাতে কলমে অঙ্ক কষে কৃষকদের বোঝান হল নতুন পদ্ধতিতে লাভের পরিমাণ। যুক্ত করা হল পরীক্ষামূলকভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। মাঠের বদলে বাড়ির উঠোনটাই হয়ে উঠল ধানের বীজ তোলার আসল জায়গা। এক ঢিলে দুই লাভ পেল চাষি। একে, ধানের বীজ লাগল কম। দুই, ফলনও উঠল আগের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, বাড়ি বসে কাজের বরাত পায় গোষ্ঠীর মহিলারাও। কারণ এই কাজে অনায়াসেই বাড়ি বসে মহিলারা পাচ্ছেন পয়সা। তুলনাটা দিলেন তপন পাল, চাষের কাজে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংযোজন ছিল কৃষি দপ্তরের ক্রান্তিকারি পদক্ষেপ। মহিলাদের কাজের অবসরে জীবিকায় নিয়োগ করলে মহিলা ক্ষমতায়নের দিকটিও যেন বাস্তবের মাটিতে নেমে আসে। যেন এই মাটিতেই ধরা পড়ে গান্ধীজীর গ্রাম স্বরাজের স্বপ্ন। প্রতিধ্বনি শোনা গেল শুভলক্ষ্মী গোষ্ঠীর মিতালি পালের গলায় সরকারি দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী প্রচলিতের সঙ্গে নতুন পদ্ধতির ফারাক এই জায়গায়ঃ প্রচলিত পদ্ধতি খরচের বহর নতুন পদ্ধতি খরচের বহর ৭ কেজি ধান/ বিঘা ৪২০ টাকা/ বিঘা ৩ কেজি ধান/বিঘা ১৮০টাকা/বিঘা রোপণ/ বিঘা ১৩০০ টাকা/বিঘা রোপণ/বিঘা ৬০০টাকা/ বিঘা ১৩ বস্তা/বিঘা ১৩,০০০ টাকা/বিঘা ১৬ বস্তা/বিঘা ১৬,০০০টাকা/বিঘা লাভের বহরেও প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এগিয়ে নতুন এই ট্রে কালটিভেশন প্রচলিত পদ্ধতির খতিয়ান উৎপাদন খরচ/ প্রতি বিঘা বিক্রয়মূল্য লাভের পরিমাণ/প্রতি বিঘা ১০,০০০ টাকা/ বিঘা ১৩,০০০ টাকা/বিঘা ৩,০০০ টাকা/বিঘা (উৎপাদনের পরিমাণ ১৩ বস্তা) প্রচলিত পদ্ধতির খতিয়ান উৎপাদন খরচ/ প্রতি বিঘা বিক্রয়মূল্য লাভের পরিমাণ/প্রতি বিঘা ৯,০০০ টাকা/বিঘা ১৬,০০০ টাকা/বিঘা ৭,০০০ টাকা/ বিঘা (উৎপাদনের পরিমাণ ১৬ বস্তা) সরকারি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে নতুন পদ্ধতির ফারাক বেশ অনেক জায়গাতেই রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ধানের বীজ লাগত ৭ কেজি। খরচ হত ৪২০ টাকা। নতুন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ধানের বীজ লাগে ৩ কেজি। খরচ পড়ে মাত্র ১৮০ টাকা। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করতে খরচ হত ১৩০০ টাকা। আর নতুন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করতে খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ১৩ বস্তা ধান উৎপাদন করা যেত। এর জন্য বিক্রি করে পাওয়া যেত ১৩ হাজার টাকা। নতুন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ১৬ বস্তা ফলন ফলে। যা বিক্রি করে মেলে ১৬ হাজার টাকা। লাভের বহরেও প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এগিয়ে নতুন এই ট্রে কালটিভেশন। উৎপাদন খরচ প্রচলিত পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির জন্য পড়ত ১০ হাজার টাকা। বিক্রি হত মাত্র ১৩ হাজার টাকায়। লাভ হত ৩ হাজার টাকা। আর নতুন পদ্ধতিতে ১৬ বস্তা ধান বিক্রি হয় ১৬ হাজার টাকায়। আর খরচ পড়ে ৯ হাজার টাকা। লাভের পরিমাণ হয় ৭ হাজার টাকা। বাড়ির উঠোনে, ছায়ায় বসে গাছের তলায় এই ধানের চারা তোলার কাজ হয় বেশ নিশ্চিন্তে। গাছেই টাঙানো থাকে গোষ্ঠীর ব্যানার। ধাপে ধাপে কাজটাও বেশ ভালোই হয়। এখানে পোকা মাকড়ের সংক্রমণের সম্ভাবনাও অনেক কম থাকে। প্রথমে ট্রেকে মাটি, জল ও সার দিয়ে তৈরি করা হয়। এর ওপর বীজ ছড়িয়ে প্লাস্টিক দিয়ে মিঠে রোদে মুড়িয়ে রেখে দেওয়া হয়। কয়েকদিন বাদেই ট্রে থেকে মাথা তোলে এক ঝাঁক সবুজ তরতাজা চারা। যাকে নিয়ে আলতোভাবে মুড়িয়ে কোলে তুলে নেয় ভোলানাথের মত চাষিরা। পরম যত্নে। এবার মেশিনের সাহায্যে ওদের মাঠে পুঁতে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হবে। এখন এই ব্লকের দুশোদশ বিঘা জমিতে ফলছে নতুন পদ্ধতির ফসল। মাঠে মাঠে ঘুরে তদারকি করছেন ইছাপুর অঞ্চলের কৃষি সঞ্চালক নিমাই মণ্ডল। আগামিতে রাজ্যে ধান উৎপাদনে নতুন দিশা দেখাতে চলেছে ইছাপুর গ্রাম। তাঁদের সাফল্যের কাহিনী হয়ে উঠবে আগামীদিনের লোকগাঁথা লোকমুখে।