Story

নেপালের পর এবার খামখেয়ালি বাংলাদেশ। পুজোর আগে ব্যপক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা। কেন জানেন? ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ হয়েছে বোল্ডার বাণিজ্য। সাড়ে তিন হাজার ট্রাক এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে ফুলবাড়ি সীমান্ত এলাকায়। সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, আশঙ্কার পারদ চড়ছে। কিন্তু আশার আলো দেখা যাচ্ছে কই? বিষয়টা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না-হলে প্রতিবেদন দেখুন শেষ পর্যন্ত।
ফুলবাড়িতে রয়েছে চার দেশীয় আন্তর্জাতিক বন্দর। যেখানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চলে নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের। এই বাণিজ্যপথকে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি পথ ধরা হয়। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার গাড়ি চলাচল করে এই পথ দিয়ে। কিন্তু ১ অগাস্ট থেকে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তার জেরেই ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন সংকটে। সিদ্ধান্তটা কী? বাংলাদেশ বোল্ডারে টন প্রতি দুই ডলার করে অতিরিক্ত কর চাপিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মোটা টাকা কর দিতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে ভারত থেকে বোল্ডার তাঁরা নিচ্ছেন না। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হচ্ছে যে এখন লাইন দিয়ে ৩৫০০ ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে ফুলবাড়ি সীমান্ত বিভিন্ন এলাকায়। কর্মহীন হয়েছেন চালক, খালাসি, স্থানীয় শ্রমিক। আর বিপুল টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। লোকসান হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। তাঁরাও যে আর বোল্ডার আমদানি করতে পারছেন না। বসে পড়ছে একের পর এক ট্রাক। ফলত রাস্তার একটি ধার ঘেঁসে শুধু বোল্ডার বোঝাই করে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় দেড়শো ট্রাক। কিছু গাড়ি তো স্রেফ পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
বাকি গাড়িগুলো এখন নষ্ট হচ্ছে পড়ে থেকে। লোকসানের ভয় পাচ্ছেন ট্রাক মালিকরা। কারণ অনেকেই লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই ট্রাক মালিকরা কাবাড়িখানায় গাড়ি বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে প্রায় ৮০০ গাড়ি। ফলে চরম সংকটে পড়ে দিন গুনছেন ব্যবসায়ীরা। আশায় রয়েছেন তাঁরাও। কিন্তু সেই আশা কতদিনে তাঁদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাবে, সেটা আপাতত কেউ জানেন না। সমস্যা কাটাতে কি পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ সরকার? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অরূপ পোদ্দার
ফুলবাড়ি