Story
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজ্যে ভ্যাকসিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা তুলে ধরেছিলেন। বলেছিলেন, রাজ্যকে আরো বেশি করে করোনার ভ্যাকসিন দিতে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বাস্তবোচিত দাবি যে কতটা সত্যি তা ধরা পড়ল রবিবার হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার এই ব্লক হাসপাতালে রবিবার বেলা বারোটা থেকে রাতভর প্রায় শ পাঁচেক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে বর্ষাকে উপেক্ষা করে। শুধু বর্ষা নয় অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশাপাশি একরত্তির দুধের শিশু নিয়েও মানুষ রাত জাগছেন ভ্যাকসিন পাওয়ার আশায়।
ইনি চৈতি লোহারা। ভ্যাকসিন পাওয়ার আশায় রবিবার সকাল নটায় দাঁড়িয়েছেন লাইনে হাড়োয়া হাসপাতালে। থাকেন কয়েক কিলোমিটার দূরে মাকালগাছিতে। রাত ১ টায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন সেই হাসপাতাল চত্বরেই। যদি বরাতে জোটে প্রথম ডোজ।
মানুষ রাতভর অপেক্ষা করছেন হাসপাতাল চত্বরে প্লাস্টিক বিছিয়ে। কেউবা আবার টোটো গাড়ি কিংবা ইঞ্জিন ভ্যানে। ইনি বাসন্তী ঘোষ। হাড়োয়া থেকে আধ ঘণ্টা দূরত্বে বাড়ি। থাকেন আন্দুলিয়াতে। রাত জাগছেন ভ্যাকসিন পাওয়ার আশায়। হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়েছেন রবিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ।
দেখুন প্লাস্টিকের ওপর মায়ের সঙ্গে রাত জাগছে একরত্তি শিশু। অন্য শিশু তো অঘোরে ঘুমোচ্ছে প্লাস্টিকের ওপর। পাশে অবশ্য বাবা হাতপাখার বাতাস দিচ্ছেন। পাছে ডেঙ্গুর মশা না কামড়ায় রাতে। অসুস্থ গৃহবধূ তো একেবারে অব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। হ্যাঁ, ইনি শম্পা ঘোষ।
কেউ খাচ্ছেন রাতে মুড়ি, কেউ বা বিস্কুট। খোলা আকাশের নিচে সবাই দাঁড়িয়ে আছেন কমন ইস্যু নিয়ে। ইস্যু অবশ্যই ভ্যাকসিন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে, রাজ্যকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাড়োয়া হাসপাতালে দূরত্ববিধি শিকেয় তুলে অসহায় মানুষের ক্ষোভ, বিদ্বেষই বলে দিচ্ছে কেন্দ্রের দাবি মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।
মাকালগছির বিশ্বনাথ সর্দার। ইনি গত দুদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন হাড়োয়া হাসপাতালে। বরাতে এখনও জোটেনি ভ্যাকসিনের ‘ভ’ টুকু।
যদিও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিনের যেটুকু জোগান রয়েছে তাতে গড়ে প্রতিদিন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে মোট ২০০ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের পক্ষ থেকে। কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা চার থেকে পাঁচশো। চাহিদা আর জোগানের তারতম্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কতটা প্রাসঙ্গিক। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক মানুষের ভ্যাকসিনেশন শেষ করতে হবে সেখানে হাড়োয়া হাসপাতালের রাতজাগা মানুষের ছবিটাই বলে দিচ্ছে ‘অচ্ছে দিন’ এর মত ভ্যাকসিনেশনের লক্ষ্যমাত্রারও একই হাল হবে নাতো?
অঙ্কিত মুখার্জী, বসিরহাট