Story
ধানের চারা এখন আর মাঠে হচ্ছে না। ধানের চারা এখন হচ্ছে কারখানায়। কৃষকের সময় এবং পরিশ্রম বাঁচিয়ে সেই ধানের চারাই এখন হচ্ছে কারখানার বাউন্ডারির ভেতরে। আর তাই চাষীদের কম সময়ে বেশি চাষের জন্য তৈরি হল সিডলিং পদ্ধতিতে চাষ আবাদ। সিডলিং পদ্ধতিতে কম সময়ে, কম পরিশ্রমে অনেক বেশি চাষ আবাদের সুবিধা হওয়ায় চাষীরাও এই যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষ আবাদের দিকেই ঝুঁকছেন।
একইরকম ভাবে খারিফ মরশুমে প্রথাগত পদ্ধতি ছেড়ে যন্ত্রের সাহায্যে ধান রোপন করার প্রবণতা বাড়ছে কোচবিহারে ১ নম্বর ব্লকের কৃষকদের মধ্যেও। এই পদ্ধতিতে চাষ করে আর্থিক খরচ ও পরিশ্রম যেমন কম হয় তেমনি প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় ফলনও অনেক বেশী হয়। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর কোচবিহার- ১ নম্বর ব্লকে খারিফ মরশুমে গত বছর ১৩৫ হেক্টর জমিতে এই সিডলিং পদ্ধতিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ১০০ হেক্টর জমিতে যন্ত্রের সাহায্যে ধান রোপন হয়ে গেছে । আর এই পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর আরও বেশী জমিতে এই পদ্ধতিতে ধানচাষ করবে কৃষকরা, এমনটাই দাবি কৃষি দপ্তরের কর্তাদের।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে সাধারণত এই পদ্ধতিতে ১ বিঘা জমি চারা সহ রোপনে খরচ হয় ১৪০০ টাকা। এবং রোপন করতে সময় লাগে মাত্র ৫০ মিনিট। যা প্রথাগত পদ্ধতিতে চাষে খরচও বেশি এবং অনেক বেশী সময় লাগে। পাশাপাশি কৃষকদের এই ধান চাষ করতে কোন রকম ধান কিনতে হয় না বা রোপণ করতে হয় না এমনকি ধানের চারা তুলে আবার পুনরায় রোপন করতে হয় না। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে শেষ অবস্থায় পুরো ধানের চারা জমিতে লাগাতে খরচ হবে মাত্র ১৪০০ টাকা। একজন কৃষকের বীজ তলা থেকে শুরু করে ধানের চারা রোপন পর্যন্ত ২ হাজার টাকা খরচ হয়। এবং সেই সঙ্গে থাকে একজন কৃষকের পরিশ্রম ও পরিচর্যা। তাতে বিঘা প্রতি ধান উৎপাদন হয় ১২-১৫ মণ কিন্তু সিডলিং পদ্ধতিতে ধান চাষে উতপাদন হয় ১৫-১৮ মণ। সে কথা মাথায় রেখেই এই পদ্ধতিতে চাষের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকদের সময়ও বাঁচে, পরিশ্রম টাও কম হয় এবং ফলনটাও বেশি হয়।
কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের চান্দামারী, চিল্কির হাট, ঘুঘুমারী, ফলিমারি, পুটিমারী, জীরানপুর সহ বিভিন্ন গ্রামপঞ্চায়েতের কৃষকরা এই সিডলিঙ্ক পদ্ধতিতে ধান চাষ শুরু করেছেন। আর এই চাষের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি দপ্তরের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন ফার্মাস ক্লাব, ফার্মাস পোডিউসার কম্পানী নিজেদের কারখানায় “ট্রে” তে ধানের চারা চাষ করে তা জমিতে রোপন করে দিচ্ছে। এর ফলে তাদের বর্তমানে আয়ও বেড়েছে অনেক টাই।
এখন এই সিডলিং পদ্ধতিতে চাষ করেই কৃষি বিপ্লব করা যায় কিনা সেই দিকেই নজর ফার্মাস ক্লাবের।
শম্পা সাহা, কোচবিহার