Story
বি পি এন ডেস্ক : ভারত দ্রুত গতিতে বেড়ে চলা এক আর্থিক শক্তি। অন্যতম জায়েন্ট প্লেয়ার- এশিয়াতে। পাল্লা দিয়ে দেশে বেড়ে চলেছে স্বাক্ষরতার হারও। আর্থিক গতি আর শিক্ষার আলো নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারতের বিকাশে। চাহিদার সাথে সাথে সমানুপাতিক ভাবে বাড়ছে নতুন ভারতের এফএমসিজির বাজার। সমানতালে বড় হচ্ছে পেপার বেসড করোগেটেড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি। বর্তমান দুনিয়ায়, পেপার ইন্ডাস্ট্রিতে ভারতের র্যাঙ্ক পনেরো। মাথাপিছু কাগজ ব্যবহারের প্যারামিটারে এদেশ এখনও অনেকটা পিছিয়ে। পৃথিবীতে বছরে মাথাপিছু কাগজের ব্যবহার যখন ৫৬ কেজি; এমনকি এশিয়ান অ্যাভারেজ যখন ৪০ কেজি, তখন ভারতে তার পরিমাণ মাত্র সাড়ে দশ কেজি। পরিমাণ দুনিয়ার বিচারে নগন্য হলেও বেড়ে চলা অর্থনীতিতে এর পরিমাণ কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মত নয়। শুধু পেপার বেসড করোগেট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রির লেনদেনের বহর বছরে আঠেরো হাজার কোটি টাকা। উৎপাদনের পরিমাণ বছরে ৫.২ মিলিয়ন টন। তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান আর্থিক শক্তি ভারতের এই করোগেট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে ১২ হাজার শিল্প সংস্থা। যাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ। সেই ক্ষেত্রেই এখন লাগছে আগুনের ছোঁয়া। ক্রাফট পেপারের দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। কেজি প্রতি তা বেড়ে হয়েছে ৩১ টাকা। দুই, নোটবন্দি। তিন, করোনা জনিত লকডাউনে দেশীয় বাজারে বেরোজগারে পরিযায়ীদের ঢলজনিত অকাল মন্দা। চার, বাজারে চাহিদা রেখার নেগেটিভ গ্রোথ- সর্বোপরি কাঁচা মালের আমদানির ওপর সরকারি ফতোয়ায় এক এক করে এই উদ্যোগের কফিনে হাতুড়ি দিয়ে পিন ফোটাচ্ছে। বাস্তব চিত্রটা ধরা পড়ল ক্যামেরায়। কলকাতায় করোগেট বাজারে বেশ পরিচিত নাম ইউনিসন প্যাকেজিং প্রাইভেট লিমিটেডের যে কারখানায় মেশিনের যান্ত্রিক শব্দটাই ছিল সেখানকার রিদিম, সেখানে আজ ছুটির অলসতা। নেই শিফটিংয়ের কড়াকড়ি। উত্তর দিলেন সংস্থার কর্ণধার… তবে কাঁচামালের দামকে বিরাট বিষয় বলেছেন অসিতবাবু। কলকাতায় বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির পাশাপাশি নানান মাছ রপ্তানীকারক সংস্থাগুলিতে এখনও রয়েছে লকডাউন। স্বভাবতই অর্ডারে টান পড়েছে প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিতে। এই ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ সেলের ঘাটতি নিয়ে যে বেশিদিন চালান সম্ভব নয় তাও উঠে আসল খোঁজখবরে। কার্টুন যেহেতু বাইরে রপ্তানি হয় না দেশীয় বাজারে কনজামশনে ঘাটতি থাকলে মন্দা তো আসবেই। সরকারকে অবিলম্বে কাঁচামালের জোগান ঠিক রাখতে হবে। তবেই বাজারে দাম কমবে, চাহিদা বাড়বে। আর বাঁচানোর কোন জাদুকাঠি আছে নাকি? বলতেই… যে কারখানায় ভিড় লেগেই থাকত সেখানেই আজ সব কিছু চলছে, তবে স্লো মোশনে। বাজারে চাহিদা তৈরি হলে আবারও হাল ফিরবে এই ক্ষেত্রে। আশায় চাষা মরে না। বরং আশাই চাষাকে আগামীর পথ দেখায়। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই গতি বাড়বে এই ক্ষেত্রে।