Daily
সমতলেও নাকি চুটিয়ে চাষ হচ্ছে কমলালেবু। আহা! সবই বিজ্ঞানের লীলা। পাহাড়ের কমলা সুন্দরী এখন সমতলে। সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে কমলালেবুগুলো দেখলে আপনিও জিভের জল ধরে রাখতে পারবেন না। আর স্বাদের বিচারে? নাগপুর বা দার্জিলিঙের লেবুকে বলবে দূরে থাকতে। আর আজ সমতলের বুকে সেই এক টুকরো পাহাড় খুঁজতেই আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম হাবড়া অশোকনগরের সেনডাঙ্গা গ্রামে।
মাটির নিচে তেলের খোঁজ মেলায় ইতিমধ্যেই অশোকনগরের নাম সকলের কাছে পরিচিত। আর এবার এই কমলালেবু চাষ সেই খ্যতিতে নতুন পালক বসাল। সেনডাঙ্গার নারায়ন মণ্ডল। বছর তিনেক আগেই নিজের বাড়ির পাশের জমিতে ছোট ছোট কয়েকটা কমলালেবুর চারা লাগিয়েছিলেন। এরপর ভালোরকম সাফল্য আসায় এখন ছ-বিঘে জমিতে শুরু করেন কমলালেবু চাষ। আর আজ, ঠিক তিন বছরের মাথায় তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। সমতলেও যে কমলালেবু চাষ সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। হোক না সে কমলালেবু আকারে খানিক ছোট, কিন্তু স্বাদে তো পাহাড়কেও টেক্কা দিতে পারে। জানলে অবাক হতে পারেন, এই কমলালেবু বিক্রির জন্য তাকে আর কষ্ট করে বাজার অবধি যেতে হয় না। বাড়ির এই বাগানেই লোকজন আসেন, লেবু কিনে নিয়ে যান। তবে, ফলনের তুলনায় চাহিদা এতটাই বেশি যে কেউ কেউ এসে কমলালেবু না পেয়ে মনখারাপ করে ফিরেও গেছেন।
সমতলে কমলালেবু চাষে তিনি সফল। চান আগামীদিনে যাতে আরও মানুষ এই চাষ করেন এবং সফল হন। তাই যদি কেউ আগ্রহী থাকেন, তাকেও তিনি সবরকম সাহায্য করবেন বলেও জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক মাত্রায় চাষের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানালেন নারায়ন বাবু। তিনি বলেছেন , চাষি ভাই দের যদি বিশ্বাস না হয় আমার মতো আল্প একটু লাগিয়া দেকুন ভ্ল ফল পাবেন । মিষ্টি হবে মার্কেট ভালো সফলাটা পাবেন । আগামি দিনের জন্য বিরাট আকারে আকর্ষণ রাখতে চান ।
আশেপাশের মানুষজন এতটাই অবাক যে তারা একবার সেই বাগান দেখতে আসছেন নিজের চোখে। আর বাগানে ঘুরতে আসা অতিথিদের নিজের বাগানের কমলালেবু খাওয়াচ্ছেন নারায়ন বাবু। যার স্বাদ মুগ্ধ করছে তাদেরকে।
সমতলেও পাহাড়ি লেবুর আস্বাদ দিচ্ছেন নারায়ন বাবু। চাষে সফল হয়ে তিনি নিজে তো খুশি বটেই। খুশি হয়েছেন আশেপাশের লোকজনও। তাই আগামীদিনে এই কমলালেবু চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকেই। কাজেই ভবিষ্যতে এই নতুন ধরণের চাষে আগ্রহ বাড়িয়ে এলাকার মানুষদের কর্মসংস্থান করতে নারায়নবাবুর ভূমিকা থাকবে অনস্বীকার্য।
বিক্রম লাহা
উত্তর ২৪ পরগণা