Story
চারদিকে বক্সার ঘন জঙ্গল। কান পাতলেও শোনা যাবে না কোন রকমের কৃত্রিম শব্দ। শুধু বুনো গন্ধ আর অজানা পোকামাকড়ের ডাক সঙ্গে করে জঙ্গলের পথ ধরে এগিয়ে আসলেই নজর পড়বে একটি বন বাংলোয়। এটি আবার শতাব্দী প্রাচীন। চলুন, আজ আপনাদের নিয়ে যাব বাংলার একমাত্র পর্যটন জেলা আলিপুরদুয়ারের একটি নির্জন প্লেসে। যার নাম শিলবাংলো।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একেবারে পূর্বপ্রান্তে ভলকা রেঞ্জের বারোবিশা বিটে অবস্থিত শিলবাংলো রেস্ট হাউজ। এই বনবাংলোটি তৈরি হয়েছে ১৯১১ সালে। বাংলোর ভেতরে ঢুকলে নজর পড়বে অসাধারণ সব কাঠের কারুকাজ। একেবারে নিরিবিলি পরিবেশে শ্বাপদ সংকুল অরণ্যের মধ্যে এই বন বাংলোয় একটা রাত না কাটালে মিস করবেন জঙ্গলের এই রাতের পরিবেশ। আর বাংলো থেকে জঙ্গলের পথে আর গভীরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে গেলে পড়বে টিকটিকির ব্রিজ। যেখানে প্রতিনিয়ত বন্য জন্তুরা এখানে জল খেতে আসে। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখাও পেয়ে যেতে পারেন হরিণ, চিতা, মালাবার জায়েন্ট স্কুইরেল সহ অনেক জীবজন্তু। এই বনবাংলোটির বয়স শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যটকদের পা পড়ে না এখানে।
পর্যটকদের পা পড়লে এখানকার স্থানীয় মানুষগুলোও যে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হবেন, সে কথা অনেকেই স্বীকার করে নিচ্ছেন। তাই পর্যটকদের পা পড়াটা যে জরুরি। সেটাকে অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই।
বর্তমানে এই বাংলোটিকে নিঃসন্দেহে হেরিটেজ আখ্যা দেওয়াই যায়। বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পা পড়েছে এই বনবাংলোয়। যদিও এখন পর্যটকদের অভাবেই বাংলোটি জঙ্গলের মধ্যে সময়ের স্মৃতিচিহ্ন বুকে নিয়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে নিজের মত।
মাথায় রাখবেন, শীলবাংলোয় যদি আপনি থাকতে চান তাহলে কিন্তু আপনাকে বুকিং করতে হবে ডিএফডি অফিস থেকে। এছাড়াও বারোবিশায় রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল এবং লজ। আচ্ছা। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। কথায় বলে কান টানলে মাথা আসে। এবার আসা যাক তেমনি একটি জায়গায়। এই শীলবাংলো ফরেস্ট হাউজ থেকে যদি ৩ কিমি মত আপনি যেতে পারেন তাহলে পৌঁছে যাবেন আরো একটা সুন্দর জায়গায়। এই ঘোলানি নদীর সামনে। এই যে সাঁকোটা দেখতে পাচ্ছেন এর ঐপ্রান্তে কিন্তু অসম।
বছরের অন্যান্য সময় এই নদীর জল একেবারে স্বচ্ছ থাকলেও বর্ষাকালে ঘোলা হয়ে যায় বলে এই নদীর নাম ঘোলানী। এই জায়গাটা আবার পাখিদের স্বর্গরাজ্য। রকেট টেল ড্রঙ্গো, ভার্ডিটার ফ্লাইক্যাচার, এমারেল্ড ডাভ, গ্রেট কার্মরেন্ট, হর্নবিল, রুডিশেল ডাক,ভেলভেট ফ্রন্টেড নাটহ্যাচ, নিলটাভা সহ বিভিন্ন রকমের পাখির দেখা পাবেন এখানে।
শীলবাংলোয় আসতে হলে আপনার নিকটবর্তী যে রেল স্টেশন পড়বে তা হল
কামাখ্যাগুড়ি – ১২ কিমি
নিউ আলিপুরদুয়ার – ৩৫ কিমি
আলিপুরদুয়ার জংশন – ৩৭ কিমি
নিকটবর্তী বাস স্ট্যান্ড হল বারোবিশা। যার দূরত্ব ৫ কিমি। আর নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট হল রূপসী। যার দূরত্ব ৫৩ কিমি।
আরেকটা বিষয়। শীলবাংলোয় যখন আসবেনই তখন আরেকটু কষ্ট করে আরো কয়েকটা জায়গা কিন্তু ঘুরে নিতে পারেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভুটানের লাময়জিংখা, ডেবিটার ও আসামের রাইমনা ন্যাশনাল পার্ক। এই ন্যাশনাল পার্কটি আবার গোল্ডেন লেঙ্গুরের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও কুমারগ্রামের ধুমপাড়া ও চাবাগান গুলি সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন। আর হ্যাঁ। এখানে এলে একেবারেই ভুলবেন না সুস্বাদু বোরেলি মাছ ও ঢেঁকি শাকের স্বাদ নিতে।
অভিজিৎ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার