Story

লাভের মুখ কম দেখলেও চিরাচরিত পদ্ধতিতে চাষ করাই ছিল কৃষকদের দস্তুর। তাই পলিমালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁরা যেমন খুব একটা ওয়াকিবহাল ছিলেন না তেমনি কৃষি দফতরের পরামর্শেও প্রথম দিকে খুব একটা চিঁড়ে ভেজেনি। মাটির উপর পলিথিন পেতেও যে কৃষিকাজে দারুণ সাফল্য আসতে পারে এই ধারণাটাই কৃষকদের তৈরি হয়নি প্রাথমিক পর্যায়ে। তাই পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র পাঁচ জন কৃষক ১০ বিঘা জমিতে পলিমালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিন বছর আগে। কিন্তু বিকল্প পদ্ধতিতে চাষ করে যে দারুণ সাফল্য এলো তারই হাতে গরম প্রমাণ ধরা পড়ল সুন্দরবন লাগোয়া মিনাখাঁ ব্লকে। এখন মিনাখাঁ ব্লকের রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পলি মালচিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে সবজি।
কাশেম মোল্লা, আসাদুল মোল্লার মত কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে গতানুগতিক পদ্ধতিতে চাষবাস করছিলেন। লাভের মুখ তেমন একটা দেখতে পাচ্ছিলেন না। তারপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত রয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। একটা সময় এসেছিল, যখন তাঁরা পেশা বদলের কথাও ভেবেছিলেন। অবশেষে মিনাখাঁ ব্লকের কৃষি দপ্তরের পরামর্শে পলি মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে তাঁরা এখন সফল।
পলিমালচিংয়ে চাষ করার সবথেকে বেশি সুবিধা হল, এই পদ্ধতিতে চাষ করলে যেমন জলের ব্যবহার অনেকটা কম লাগে। তেমনি সারের ব্যবহারও অনেকটা কম হয়। খরচ কম। গাছের গ্রোথ হয় খুব তাড়াতাড়ি। তাই এই পদ্ধতিতে চাষ আখেরে কৃষকদের কাছে আশীর্বাদের মতন। প্রাথমিক পর্যায়ে মিনাখাঁর কৃষকরা এই পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন একটা ওয়াকিবহাল ছিলেন না। কিন্তু উৎসাহ হারায় নি কৃষি দফতর।
যে কারণে এখন প্রায় ৬০ জন কৃষক ১০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরণের সব্জি চাষ করছেন। যার মধ্যে রয়েছে বেগুন, শসা,পেঁয়াজ, স্কোয়াশ সহ একাধিক ফসল।
বিকল্প পদ্ধতিতে কিভাবে চাষাবাদ করা যায়, সেই বিষয়ে কৃষি দফতর একেবারে মাঠে নেমে কৃষকবন্ধুদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। যাতে কোনভাবেই না তাঁদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। পলিমালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে যাতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পান সেদিকেই রয়েছে কৃষি দফতরের ২৪ ঘণ্টা নজর।
সুন্দরবন লাগোয়া হওয়ার কারণে এখানে সব্জি চাষে বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। তার অন্যতম প্রধান কারণ নোনা জল। তাই এখানকার অধিকাংশ কৃষক নোনা জলে মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত। নোনা জলে মাছ চাষ করেই তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন। তারই মধ্যে যেটুকু উঁচু জমি রয়েছে সেখানে কিছু দেশীয় ধান ও সবজি চাষ করে গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে নেন তাঁরা। তাই সমস্যা থেকেই যায়। কিন্তু সমস্যা যেমন রয়েছে। তেমনি রয়েছে সুরাহাও। কৃষকবন্ধুদের পাশে রাতদিন পরে থেকে বিকল্প পদ্ধতি পলিমালচিং চাষ করেই সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দিলেন কৃষি আধিকারিকরা। যেভাবে পলি মালচিং পদ্ধতিতে আতমা প্রকল্পে সবজি চাষ করতে এগিয়ে এসেছেন কৃষকরা তাতে হয়তো জেলার অন্যান্য ব্লকের ক্ষেত্রে মডেল হয়ে উঠতে পারে এই মিনাখাঁ ব্লক।
দেবস্মিতা মণ্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা