Story
রাজ্যের অন্যতম রুক্ষ এলাকা হল পুরুলিয়া। এমনিতেই এখানে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এখানকার অধিকাংশ জমিই হচ্ছে একফসলী। তাই পুরুলিয়াতে বোরো মরশুমে ধান চাষ করে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে- এই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায়না। কিন্তু কৃষি দপ্তরের সহায়তায় আজ বদলে যেতে চলেছে সেই দৃশ্য। রুক্ষ এলাকাতে বোরো মরসুমেও যে ধান চাষ সম্ভব- সেটা প্রমাণিত হল দুই কৃষকের জমিতে ধানের বিস্তৃতি দেখে।
নেতুড়িয়া ব্লকের জনার্দনডি গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজনগর গ্রামের দুই কৃষক মোহন টুডু এবং বাবুলাল টুডুড় জমিতে এক প্রদর্শনীক্ষেত্রের আয়োজন করে স্থানীয় কৃষি দপ্তর। এই দুই কৃষকের জমিতে মোট ১৪টি ধানের জাত নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। যেগুলি আনা হয়েছে হুগলির চুঁচুড়ায় রাজ্য সরকারের ধান্য গবেষণা কেন্দ্র থেকে। যার মধ্যে রয়েছে Arise-6129, Arise-Tej Gold এর মত ৯টি হাইব্রিড এবং অজিত, মুক্তশ্রী, শতাব্দীর মত পাঁচটি উচ্চ ফলনশীল জাত। বোরো মরশুমে কোন ধান অনেকটা বেশি ফলন দিতে সক্ষম এবং কোন ধানে রোগ-পোকার আক্রমণ কম সেই বার্তা দিতেই পরীক্ষা চালায় কৃষি দপ্তর। দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের পরেও ধান চাষ করে আশাতীত ফল পেয়েছেন ঐ দুই কৃষক।
এমনিতেই পুরুলিয়ায় বোরো মরশুমে ধান চাষ করতে দেরি হয়ে যায়। কারণ এখানে মাত্র ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। যেখানে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয় আমন ধানের। ফলে বীজতোলা প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। সেদিক থেকে দেখলে এই নতুন পদ্ধতিতে চাষ করলে সময় যেমন অনেকটা কম লাগে তেমনই ফলনও পাওয়া যায় ভালো। কারণ এই ক্ষেত্রে জমিতে সরাসরি অঙ্কুরিত বীজ বপন করা হয়েছে।
এই বীজ বপন করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখে। তিন মাসের মাথায় দেখা গেছে হাইব্রিড জাতের ধান থেকে ফলন পাওয়া গেছে বিঘা প্রতি ৬.৫-৭ কুইন্টাল এবং উচ্চফলনশীল জাতগুলিতে ফলন এসেছে বিঘা প্রতি ৪-৫ থেকে কুইন্টাল। স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে ধান চাষের অভিজ্ঞতা গ্রামের কৃষকদের মধ্যে না থাকার কারণে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
চাষে এমন সাফল্য আসার পরে স্বাভাবিকভাই গ্রামের অন্যান্য কৃষকরা এই অভিনব পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে অনেক বেশি উৎসাহিত। নারায়ন টুডু, পরমেশ্বর হেমব্রমের মত কৃষকরাও আগামী বছর এভাবেই ধানচাষ করতে চান।
পুরুলিয়া জেলায় বোরো ধানের চাষ এমনিতেই কম হয়। সেচের জলের অভাব এই চাষে এক বড় রকম বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বোরো ধান চাষে ক্ষতির মুখ দেখতে হয় কৃষকদের। ফলে আগ্রহ হারিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে কৃষি বিজ্ঞানের এই আধুনিক পদ্ধতিই তাঁদের মুখে ফুটিয়েছে আশার আলো। আর্থিক দিক থেকে তাঁরাও হবেন লাভবান। আর সেই আশাতেই বোরো ধান চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছেন নেতুড়িয়া ব্লকের জনার্দনডি গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজনগর গ্রামের কৃষকরা।
সন্দীপ সরকার, পুরুলিয়া