Story
গত মে মাসেই ওড়িশার বালেশ্বর এবং ধামড়ার মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন সহ গোটা এলাকা একেবারে তছনছ করে দিয়ে যায়। হাজার হাজার কৃষি পরিবারে নামে অনিশ্চয়তার আঁধার। নোনা জল ঢুকে জমির পর জমি নষ্ট করে দেয় এই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। বন্ধ হয়ে যায় উপার্জনের প্রবেশপথ। আর তারপরেই অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার।
সুন্দরবনের প্রান্তিক কৃষকদের চাষের জমি থেকে নোনা জল বার করে দিয়ে সেই জমিতেই নোনাশ্রী বীজ রোপণ করার জন্য কৃষকদের বিতরণ করা শুরু করল রাজ্য সরকার। এটি এমনই একটি ধানের বীজ যা নোনা জমিতে চাষ করা সম্ভব। এর ফলে আর্থিকভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কৃষকরা। কারণ আম্পানের সময়েও কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছিল এই নোনাশ্রী বীজধান।
জানা গিয়েছে, সমষ্টিগত বীজতলা করেও কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। তবে এই নোনাশ্রী ধান আদৌ কি কৃষকদের লাভবান করবে? কী বলছেন ইয়াসে সব হারানো কৃষকরা?
নোনাশ্রী বীজ থেকে ধান হবে কিনা এই নিয়ে যেমন এখনো কৃষকদের মনে সংশয় রয়েছে, তেমনই শিবরাত্রির সলতের মত এইটুকুই বড় ভরসার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে সরকার। কারণ ধান হলে তবেই জুটবে খোরাকি। পেট ভরবে, কৃষকরাও বাঁচবেন।
ইয়াস চলে গিয়েছে। কিন্তু অনিশ্চয়তা যায়নি। তান্ডবের সাক্ষী থেকেছেন উপকূলের কৃষকরা। একইসঙ্গে জেনেছেন বেঁচে থাকতে হবে। তাই প্রান্তিক কৃষকদের হাতে আর কোন উপায় নেই এই ধান চাষ ছাড়া। এখন নোনাশ্রী বীজ ধান থেকেই কালকের অন্ন জোটাবার আশায় অপেক্ষা করছেন উপকূলের কৃষকরা।
দীপান্বিতা দাস, দক্ষিণ ২৪ পরগনা